রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
হত্যাচেষ্টা মামলা

হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে জামিননামা দিলেন এমপি গাজী নজরুল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে জামিননামা দিলেন এমপি গাজী নজরুল

রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিননামা দাখিল করেছেন সাতক্ষীরা-চার আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি এই জামিননামা জমা দেন। আদালত সূত্র জানায়, এর আগে হাইকোর্ট থেকে গত দশ আগস্ট আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেছিলেন তিনি। 

ব্যক্তিগত গাড়িচালককে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এনে গত একুশ জুলাই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।  মামলায় ৭৪ বছর বয়সী সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ছাড়াও ৫৫ বছর বয়সী আমিনুর রহমান, ৪১ বছর বয়সী মাসুম বিল্লাহ, ২৫ বছর বয়সী মোতাসসিম বিল্লাহ ও ৩০ বছর বয়সী রাকিবুল হাসানকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারের বিবরণে মামলার বাদী উল্লেখ করেন তিনি পল্লবীর কালশী এলাকার রোজগার্ডেন টাওয়ারে বোনের বাসায় বসবাস করতেন এবং সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত চালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

আত্মীয়তার সূত্রে ওই বাসায় যাতায়াতকালে একপর্যায়ে বাদীর ভাগ্নির সঙ্গে সংসদ সদস্য অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বাদী পরিবারের সদস্যদের জানান এবং সংসদ সদস্যকে বিরত থাকতে অনুরোধ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরবর্তীতে একটি চক্র ওই ঘটনার কিছু অপ্রীতিকর ভিডিও সংগ্রহ করে সংসদ সদস্যকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে বলে জানা যায়।

সংসদ সদস্যের সন্দেহ হয় যে বাদী নিজেই ওই ভিডিও গোপনে ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের কাছে সরবরাহ করেছেন। এই সন্দেহের জেরে গত চৌদ্দ জুলাই সংসদ সদস্যের নির্দেশে অন্য আসামিরা বাদীর ওপর হামলা চালায়। মামলার বিবরণে বলা হয় ওই দিন বেলা এগারোটার দিকে আসামি আমিনুর কৌশলে বাদীকে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন এবং সেখানে থাকা অন্য আসামিরা লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।

একপর্যায়ে আমিনুর বাদীকে মেঝেতে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালান। ওই সময় বাদীর মা ও ছোট বোন চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং আসামিরা তাকে যেখানে পাবে সেখানেই হত্যার হুমকি অব্যাহত রাখে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।