সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
মেঘনা ও গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের তিনশত নয় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সতেরো জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী দশ ডিসেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। রোববার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির এই আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, রোববার এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্ধারিত তারিখ ছিল।
তবে মামলার তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিচারক প্রতিবেদন জমার জন্য পরবর্তী এই সময় নির্ধারণ করেন। এর আগে ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ সতেরো জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের পাঁচের দুই ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফারুক জলিল, উপ-সচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মোহাম্মদ আফতাব হোসেন খান এবং মোহাম্মদ আব্দুস সালাম। এছাড়া বেসরকারি খাতের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবালকেও এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এজাহারের বিবরণী অনুযায়ী ২০১৬ সালে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে এই সেতুর টোল আদায়ের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রে পূর্বে আহ্বান করা বৈধ টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করা হয় এবং অন্য কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো প্রকার উন্মুক্ত দরকষাকষি বা আলোচনা ছাড়াই চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়। কার্যাদেশে প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দিষ্ট অঙ্কের পারিশ্রমিকের পরিবর্তে মোট আদায় করা টোলের সতেরো দশমিক পঁচাত্তর শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ প্রদানের শর্ত নির্ধারণ করা হয়, যা ভ্যাট ও আয়কর ব্যতীত কার্যকর ছিল। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি কোষাগার থেকে চারশত ঊননব্বই কোটি টাকার বেশি বিল গ্রহণ করে।
অথচ নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে ২০১০ থেকে ২০১৫ মেয়াদে একই সেতুতে যৌথভাবে অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ বছরের জন্য টোল আদায়ের দায়িত্ব দিতে সরকারের ব্যয় হয়েছিল মাত্র পনেরো কোটি টাকার কিছু বেশি। অন্যদিকে ২০২২ থেকে ২০২৫ মেয়াদে আরেকটি প্রতিষ্ঠান একই প্রযুক্তিতে তিন বছরের জন্য মাত্র সাতষট্টি কোটি টাকার চুক্তি পায়, যা পাঁচ বছরের মেয়াদে হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রায় একশত বারো কোটি টাকা। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, উন্মুক্ত দরপত্র পাশ কাটিয়ে একক উৎসভিত্তিক এই অস্বাভাবিক চুক্তির মাধ্যমে সরাসরি সরকারের তিনশত নয় কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি সাধন করা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন