সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
পবিত্র কোরআনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময় অংশ হিসেবে সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতকে আয়াতুল কুরসি নামে অভিহিত করা হয়। এই আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদ, চিরঞ্জীব সত্তা, সর্বজ্ঞতা, সর্বময় ক্ষমতা এবং বিশ্বজগতের ওপর তার একক ও সার্বভৌম কর্তৃত্বের অনন্য বর্ণনা রয়েছে। ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একাধিক হাদিসে এই আয়াতের অনন্য মর্যাদা ও ফজিলত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মুসলিম সমাজে নিয়মিত তিলাওয়াত ও প্রার্থনায় আয়াতুল কুরসি অন্যতম প্রধান আমল হিসেবে স্থান পেয়ে আসছে।
দৈনন্দিন জীবনে সঠিক সময়ে এই পবিত্র আয়াত পাঠে আত্মিক সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সুনান আন-নাসায়ির এক হাদিসে হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করে, তবে তার জান্নাতে প্রবেশের পথে পার্থিব মৃত্যু ছাড়া আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে না। এই নির্দেশনার কারণে প্রতিটি ফরজ নামাজের সমাপনীতে আয়াতটি পাঠ করা একটি অতীব প্রশংসনীয় ও ধারাবাহিক সুন্নাহসম্মত আমল হিসেবে গণ্য।
রাতে ঘুমানোর পূর্বে আয়াতুল কুরসি পাঠের ফজিলত সম্পর্কে সহিহ বুখারির একটি সুপরিচিত বর্ণনায় বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। সেই বর্ণনায় সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) কর্তৃক সদকার সংরক্ষিত মাল পাহারা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে এক রাতের ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়, রাতে ঘুমানোর আগে এই আয়াত তিলাওয়াত করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ একজন ফেরেশতা বা প্রহরী নিয়োজিত থাকে এবং ভোর পর্যন্ত শয়তানের কোনো ধরনের অনিষ্ট স্পর্শ করতে পারে না। পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই পরামর্শদাতার চরিত্র উন্মোচন করে জানান যে সে স্বভাবজাত মিথ্যাবাদী হলেও এই বিশেষ তথ্যটি সত্য বলেছে এবং ওই ব্যক্তি ছিল স্বয়ং শয়তান।
এছাড়া দৈনন্দিন সকাল ও সন্ধ্যার নিয়মিত প্রার্থনায় আল্লাহর বিশেষ রহমত ও হেফাজত কামনার অংশ হিসেবে আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াতের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। সকাল ও সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট এই পবিত্র আয়াত তিলাওয়াত পরিবার ও ব্যক্তির সার্বিক আত্মিক সুরক্ষাকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন