সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
দেশের বাজারে এক লাফে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন—এই চার ধরনের জ্বালানি তেলের দামই লিটারপ্রতি বিশ টাকা করে বৃদ্ধি করেছে সরকার। রোববার জারি করা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই মূল্যবৃদ্ধির আদেশ কার্যকর করা হয়। ঘোষিত নতুন দর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩৫ টাকা। প্রতি লিটার কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা এবং পেট্রলের দাম ১৪০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া অকটেনের বর্তমান মূল্য প্রতি লিটার ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১৬৫ টাকায়।
সোমবার একুশ সেপ্টেম্বর থেকেই দেশব্যাপী এই নতুন সমন্বিত মূল্য কার্যকর হবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে গত মার্চ মাস থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য এবং আন্তর্জাতিক জাহাজভাড়া বা ফ্রেইট চার্জ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দর দ্বিগুণেরও বেশি বাড়লেও দেশীয় জনস্বার্থ বিবেচনা করে সরকার দীর্ঘদিন তা অভ্যন্তরীণ বাজারে সম্পূর্ণ সমন্বয় করেনি। ফলস্বরূপ মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত টানা ছয় মাসে কেবল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
এর আগে চলতি বছরের উনিশ এপ্রিল ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার। সে সময় একই সাথে কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা, পেট্রলের দাম ১৯ টাকা এবং অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। পরবর্তীতে জুন মাসে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম পুনরায় লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম পুরোপুরি অপরিবর্তিত ছিল।
সরকারি হিসাব বলছে বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরের কারণে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির ঘাটতি হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে সংস্থাটির প্রতিদিনের আর্থিক লোকসান গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ১০৯ কোটি টাকায়। কোনো ধরনের মূল্য সমন্বয় না করা হলে শুধুমাত্র ডিজেল খাতেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনতে হতো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটিকে। লিটারে ২০ টাকা মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিপিসির এই বিপুল বার্ষিক আর্থিক ক্ষতি থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
নতুন এই জ্বালানি মূল্য কার্যকরের সরাসরি প্রভাবে অভ্যন্তরীণ পরিবহন, কৃষিখাতে সেচ কার্যক্রম এবং ভোগ্যপণ্যের পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। যার সার্বিক প্রভাব শেষ পর্যন্ত দেশের সাধারণ নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন