সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গাজী নজরুলের স্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে রাশেদ খাঁনের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১১:২৫ পিএম

গাজী নজরুলের স্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে রাশেদ খাঁনের

সাতক্ষীরা-চার আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে জনসমক্ষে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট বেরিয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় এসব বক্তব্য তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তিনি প্রশ্ন তোলেন এই সংসদ সদস্যের গ্রেপ্তারের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজপথে নামবে কি না। একই সাথে তিনি দাবি করেন যে গাজী নজরুল ইসলামের সাবেক গাড়িচালক ছিলেন নিহত মরিয়মের মামা। মরিয়মের সঙ্গে এই সংসদ সদস্যের সম্পর্কের বিষয়টিকে পরিবারের সদস্যরা কীভাবে দেখেছিলেন সেটিও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং মরিয়মের বাবা-মায়ের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে জামায়াত-শিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দলীয় অবস্থান শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়ায় তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন সংসদ সদস্য ভবনের (ন্যাম ভবন) একটি ফ্ল্যাট থেকে উনিশ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চলতি বছরের ২১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাতক্ষীরা-চার (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সাথে এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার জেরে গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। দলটির বহিষ্কার আদেশে উল্লেখ করা হয় যে তাদের নিজস্ব সাংগঠনিক তদন্তে ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন যে ভিডিওতে থাকা নারী তাঁর আইনসম্মত দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তাঁর নাম মরিয়ম বেগম। তিনি সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়ে জানিয়েছিলেন যে বিগত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল।