সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬,

চট্টগ্রামের গোল্লা সাবান: শত বছর ধরে টিকে রয়েছে চাক্তাইয়ের হাতে তৈরি পণ্য

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১২, ২০২৬, ০২:১৮ পিএম

চট্টগ্রামের গোল্লা সাবান: শত বছর ধরে টিকে রয়েছে চাক্তাইয়ের হাতে তৈরি পণ্য

চট্টগ্রামের গোল্লা সাবান শতবর্ষের পথচলা পেরিয়ে আজও এই অঞ্চলের মানুষের কাছে নিজস্ব ঐতিহ্য ও আস্থার প্রতীক হিসেবে সমাদৃত হয়ে আসছে। গোলাকার আকৃতির কারণে স্থানীয়দের মুখে মুখে এটি গোল্লা সাবান নামে পরিচিতি পেলেও এর প্রাতিষ্ঠানিক নামের পেছনে রয়েছে প্রায় নয় দশকের পুরনো এক ব্যবসায়িক ইতিহাস। ব্রিটিশ আমলে ১৯৩৭ সালে বাণিজ্যিক কারখানার নিবন্ধন পাওয়ার পর এর দাপ্তরিক নাম রাখা হয় ১৯৩৭ সাবান, যা লোকমুখে আবার বাংলা সাবান নামেও পরিচিত। স্থানীয় চাক্তাই ও ডাক্তারি খাল এলাকায় বর্তমানে এ ধরনের প্রায় ১৪ থেকে ১৫টি কারখানা চালু রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশের নামেই ১৯৩৭ সংখ্যার স্মৃতিচিহ্ন যুক্ত দেখা যায়।

দেখতে হুবহু আখের গুড়ের পিণ্ডের মতো হলেও এগুলো মূলত জামাকাপড় ধোয়ার বিশেষ সাবান, যা তৈরিতে চলে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ।

বিশাল কড়াইয়ে রাইস ব্র্যান অয়েলসহ সাবান তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল একসঙ্গে মেশানো হয়। এরপর গ্যাসের চুলার তাপে টানা পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা ধরে চলে ফোটানোর কাজ। কাঁচামাল ভালোভাবে সেদ্ধ ও মিশ্রিত হয়ে ঘন রূপ নিলে তা নামিয়ে ঠান্ডা করা হয়। পরবর্তী ধাপে বিশেষ গোল ছাঁচে ফেলে নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয় চট্টগ্রামের এই ঐতিহ্যবাহী গোলাকার সাবান।

ব্রিটিশ আমল থেকেই চট্টগ্রাম নগরের ডাক্তারি খাল সংলগ্ন চাক্তাই এলাকায় এই সাবানের কারখানা গড়ে ওঠে।

১৯১৯ সালে চাক্তাই এলাকায় নূর আলী সওদাগর প্রথম এই সাবান তৈরির উদ্যোগ নেন, যদিও প্রাতিষ্ঠানিক কারখানার নিবন্ধন সম্পন্ন হয় ১৯৩৭ সালে। বর্তমানে নূর আলী সওদাগরের তৃতীয় প্রজন্ম ‘নূর আলী সওদাগর অ্যান্ড সন্স’ নামে পারিবারিক এই ব্যবসা সগৌরবে পরিচালনা করে আসছে।

উদ্যোক্তা পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পিতামহের হাত ধরে ১৯১৯ সালে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্র্যান্ড নাম ছাড়াই এই উৎপাদন শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি সরকারিভাবে নিবন্ধিত হলে ব্র্যান্ডের নামই হয়ে যায় ১৯৩৭।

বর্তমানে এই কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মণ, অর্থাৎ আড়াই হাজার কেজি সাবান তৈরি হয়।

শত বছর ধরে প্রায় একই ছাঁচে তৈরি হয়ে আসছে ৫০০ গ্রাম ওজনের এই গোল্লা সাবান। তবে সাধারণ ক্রেতাদের বর্তমান ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে এখন ৫০০ গ্রামের পাশাপাশি নতুন করে ১৩০ গ্রাম ওজনের ছোট সাবানও বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।

আধুনিক পণ্যের ভিড়ে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনযাপনের ধরন বদলালেও চট্টগ্রামের এই গোল্লা সাবানের প্রতি ক্রেতাদের নির্ভরতা কমেনি। এটি এখন আর কেবল নিত্যব্যবহার্য সাধারণ কোনো পণ্য নয়, বরং চট্টগ্রামের শতবর্ষী বাণিজ্যিক ইতিহাসের এক জীবন্ত স্মারক।