অক্টোবর ১২, ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
দিল্লি পুলিশকে সিজেপির আল্টিমেটাম দেওয়ার মধ্য দিয়ে ভারতের রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশের স্থান নির্ধারণ নিয়ে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সভার সুনির্দিষ্ট তারিখ ও অনুমতি না জানালে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে কাকরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সোমবার (১২ অক্টোবর) দলটির দুই শীর্ষ নেতা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে এই সময়সীমা বেঁধে দেন।
আন্দোলনের অনুমতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে থানায় প্রবেশ করেন সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস।
থানা ভবনের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, যন্তর মন্তর হলো গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের জন্য নির্ধারিত জায়গা। তারা সেখানে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের তারিখ নিতেই সরাসরি থানায় এসেছেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে প্রতিবাদ সমাবেশ পরিচালনা করা যাবে তা পুলিশের পরিষ্কার করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাড়া না পেলে দলটি নতুন আন্দোলনের ডাক দেবে বলে জানান তিনি।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ সংক্রান্ত বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের কারচুপির অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বর্তমানে চরম রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছে। সিজেপির এই আল্টিমেটাম সেই উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে সিজেপির প্রস্তাবিত সমাবেশের অনুমতি দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানায় দিল্লি পুলিশ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কর্মসূচি শুরুর মাত্র তিন দিন আগে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল, যা অফিশিয়াল বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন। নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্তত ১০ দিন আগে অনুমতির জন্য আবেদন করতে হয়। এ ছাড়া জননিরাপত্তা রক্ষা, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং আগের বিভিন্ন আন্দোলনে আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কার কথা কারণ হিসেবে উল্লেখ করে পুলিশ।
তবে এসব যুক্তি মানতে নারাজ আন্দোলনকারী দলটি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ঘোষিত লাগাতার আন্দোলনের অংশ হিসেবে যেকোনো মূল্যে রাজপথে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্তে তারা অনড় রয়েছে।
আইন প্রয়োগের এই প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতে নতুন আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কোনো অবস্থাতেই শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের আটক করা যাবে না। কিন্তু শীর্ষ আদালতের এই সুনির্দিষ্ট রায় বহাল থাকা সত্ত্বেও দিল্লিজুড়ে আন্দোলনকারীদের একের পর এক আটক করা অব্যাহত রেখেছে পুলিশ প্রশাসন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা অস্পষ্ট সরকারি আদেশের অজুহাত তুলে পুলিশ প্রায়শই আদালতের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা পাশ কাটিয়ে চলে। অতীতে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বাতিল হওয়া ৬৬এ ধারা প্রয়োগ করা কিংবা গ্রেপ্তারসংক্রান্ত আদালতের সুনির্দিষ্ট রক্ষাকবচ অমান্য করার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি এখনো রাজধানীতে অব্যাহত রয়েছে, যা নাগরিকদের সাংবিধানিক মতপ্রকাশের অধিকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন