সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬,
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি

রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পাকিস্তানি নাগরিক নিহত ও আহত ১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ১২, ২০২৬, ১১:১২ এএম

রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পাকিস্তানি নাগরিক নিহত ও আহত ১১

ছবি: সংগৃহীত

রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোববার (১১ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ) হতাহতের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য নির্ধারিত ৩ ও ৪ নম্বর টার্মিনালে সরাসরি এই ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।

এর ঠিক একদিন আগেই একই বিমানবন্দরে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছিল। শনিবারের সেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। সৌদিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, শনিবারের হামলায় গুরুতর আহত এক ভারতীয় নাগরিক রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর ফলে শনিবারের হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।

রোববারের হামলার সময় বিমানবন্দরে অবস্থানরত প্রত্যক্ষদর্শীরা চরম আতঙ্ক প্রত্যক্ষ করেন।

ট্যাক্সিওয়েতে থাকা একটি বিমানের এক যাত্রী আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে জানান, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটার দিকে বেশ কয়েকটি পার্ক করা উড়োজাহাজের কাছে রানওয়েতে তীব্র বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি আছড়ে পড়ে। এরপর তাদের বিমানটি দ্রুত বোর্ডিং গেটে ফিরিয়ে আনা হয় এবং যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

গত পাঁচ দিনের ব্যবধানে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চারবার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলো। জিএসিএ-র তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার চালানো হামলায় একজন বৈমানিকসহ অন্তত তিনজন সৌদি নাগরিক প্রাণ হারান।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে শনিবারের হামলাটিই ছিল সৌদি আরবের ভূখণ্ডে সবচেয়ে বড় ও রক্তক্ষয়ী ঘটনা। একের পর এক হামলার প্রেক্ষাপটে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাভাবিক ফ্লাইট পরিচালনা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের এই লাগাতার হামলায় অঞ্চলজুড়ে চলমান যুদ্ধ আরও মারাত্মক রূপ নিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তীব্র হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুথিদের তৎপরতা বন্ধে সামরিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়টি তার বিবেচনায় রয়েছে।