অক্টোবর ১২, ২০২৬, ১১:০৬ এএম
ঘুমিয়েও ক্লান্ত লাগার কারণ হিসেবে চিকিৎসা বিজ্ঞানে পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি জীবনযাপনের ৫টি ক্ষতিকর অভ্যাসকে দায়ী করা হয়। রাতে টানা সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানোর পরও সকালে শরীর ভারী লাগা, সারাদিন ঝিমুনি ভাব কিংবা কাজে তীব্র মনোযোগহীনতা দেখা দিতে পারে। মাঝেমধ্যে এমনটা স্বাভাবিক হলেও প্রায় প্রতিদিন এই সমস্যায় ভোগার অর্থ হলো প্রাত্যহিক অভ্যাসে বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে। শুধু বিছানায় দীর্ঘ সময় কাটালেই শরীর সতেজ হয় না; খাবারের ধরন, পানির ভারসাম্য ও নড়াচড়ার অভাব সরাসরি শরীরের কার্যক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়।
ঘুমানোর ঠিক আগে বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রবণতা এর অন্যতম প্রধান কারণ। ফোনের উজ্জ্বল নীল আলো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করার মানসিক উত্তেজনা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দকে এলোমেলো করে তোলে। এতে গভীর ঘুম ব্যাহত হয় এবং সকালে ঘুম ভাঙার পরও অবসাদ পিছু ছাড়ে না।
সময়মতো সুষম খাবার গ্রহণ না করাও ক্লান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সকালের নাশতা বাদ দেওয়া কিংবা দীর্ঘ সময় অনাহারে থাকার ফলে শরীরের শক্তি দ্রুত কমে যায়। অনেকে তাৎক্ষণিক শক্তি পেতে অতিরিক্ত মিষ্টি বা চিনিযুক্ত খাবারের ওপর নির্ভর করেন, যা রক্তে শর্করার মাত্রা সাময়িক বাড়ালেও পরক্ষণেই তীব্র দুর্বলতা তৈরি করে। প্রোটিন, শাকসবজি ও ফলমূলসমৃদ্ধ খাবার ছাড়া শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন।
শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে মাথা ঘোরানো, মাথাব্যথা এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।
বিশেষ করে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে একটানা কাজ করার সময় তৃষ্ণা কম পায় বলে অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলে যান। তৃষ্ণার অপেক্ষা না করে নিয়মিত বিরতিতে পানি, চিনি ছাড়া লেবুর শরবত বা ডাবের পানি পানের অভ্যাস রাখা প্রয়োজন।
একটানা দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করা পেশির নমনীয়তা নষ্ট করে ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে তোলে। কাজের ফাঁকে প্রতি আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা পরপর কিছুটা সময় হেঁটে নেওয়া কিংবা হালকা শরীরচর্চা করা শরীরকে সচল রাখতে সাহায্য করে।
ঘুম ঘুম ভাব কাটাতে বারবার অতিরিক্ত চা বা কফি পান করা উপকারের বদলে উল্টো ক্ষতি ডেকে আনে।
ক্যাফেইন সাময়িকভাবে ক্লান্তি চাপা দিলেও অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে রাতের স্বাভাবিক ঘুম আসার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। বিশেষ করে বিকেল কিংবা সন্ধ্যার পর চা-কফি পানের অভ্যাস রাতের গভীর ঘুম পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়।
তবে জীবনযাপনের এসব অভ্যাস সংশোধনের পরও যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্লান্তি দূর না হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শরীরে রক্তস্বল্পতা, আয়রন বা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি, থাইরয়েডের জটিলতা কিংবা ঘুমের কোনো অভ্যন্তরীণ রোগের কারণেও এই সমস্যা স্থায়ী হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই সঠিক সমাধান নিশ্চিত করা দরকার।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন