অক্টোবর ১০, ২০২৬, ১০:৫১ এএম
শীত শুরু হতে এখনও কিছুটা দেরি হলেও বাতাসে এখন থেকেই শীতের এক হালকা আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবহাওয়া যত শুষ্ক হতে শুরু করবে, ততই ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকবে বায়ুদূষণের মাত্রা। বাতাসে ধুলোবালির পরিমাণ বাড়লে নানা অসুখে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই সময়ে শাক-সবজি, ডাল থেকে শুরু করে আমলকী ও বাদামের মতো পুষ্টিকর খাবারগুলো শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসে ভেসে বেড়ানো সূক্ষ্ম ধূলিকণা খুব সহজেই ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। এটি প্রদাহ সৃষ্টি করার পাশাপাশি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়িয়ে তোলে, যা শেষ পর্যন্ত কোষের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। যদিও বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করা, ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার রাখা এবং দূষণের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি, তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাসও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যা কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়।
পালং শাক এবং মেথি শাকের মতো পাতাযুক্ত শাকগুলো ফোলেট বা ভিটামিন বি নাইনের চমৎকার উৎস। শরীরের ডিএনএ তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এই উপাদানের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোষগুলো যখন স্বাভাবিকভাবে বিভাজিত হয় এবং তাদের নির্ধারিত কাজ পরিচালনা করে, তখন তারা মূলত ফোলেটের ওপর নির্ভর করে। এই পুষ্টি উপাদানের গ্রহণ বাড়ানোর জন্য পালং শাক ও মেথি শাক ডাল, সবজি কিংবা দৈনন্দিন সাধারণ খাবারে সহজেই যোগ করা যেতে পারে।
মুগ ডাল, মসুর ডাল এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের ডাল প্রোটিন ও ফাইবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ ফোলেট সরবরাহ করে। এগুলোকে ডাল, খিচুড়ি বা ডালভিত্তিক যেকোনো সুস্বাদু পদ হিসেবে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সহজেই অন্তর্ভুক্ত করা যায়। খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফোলেট গ্রহণ করলে তা কোষের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করে, যদিও এটি সরাসরি দূষণজনিত ক্ষতি পুরোপুরি প্রতিরোধ করতে পারে না।
ছোলা এবং রাজমা খাদ্যতালিকায় ফোলেট যুক্ত করার আরেকটি দুর্দান্ত মাধ্যম। এগুলো শরীরকে প্রোটিন, ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান সরবরাহ করে। গরম রুটি বা ভাতের সঙ্গে এক বাটি ছোলা কিংবা রাজমার তরকারি পরিবেশন করলে তা দৈনন্দিন খাবারকে আরও বেশি পুষ্টিগতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলতে পারে।
আমলকী এবং পেয়ারা উভয়েই ভিটামিন সি-তে ভরপুর। এটি এমন একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা কোষকে ফ্রি র্যাডিকেলের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে জোরালো ভূমিকা রাখে। আমাদের দেশে আমলকী ও পেয়ারা অত্যন্ত সহজলভ্য ফল।
গাজরে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন থাকে, যা আমাদের শরীর সহজেই ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত করতে পারে। এই ভিটামিনটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখার পাশাপাশি শ্বাসতন্ত্রের ভেতরের আস্তরণ সুরক্ষিত রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন