অক্টোবর ১১, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
মশার কয়েল জ্বালানোর ধোঁয়া কি কয়েক ডজন সিগারেটের ধোঁয়ার চেয়েও বেশি বিপদজনক হতে পারে বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত কয়েলগুলো কতটা নিরাপদ এবং ঝুঁকি এড়িয়ে কয়েল ব্যবহারের উপায়ই বা কী তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে. অনেকেই মনে করেন মশার কয়েলের কোনো কাজ হয় না তবে কয়েল মশা মারার জন্য নয়, মূলত মশা তাড়ানোর জন্যই ব্যবহার করা হয়
জনস্বাস্থ্য কীটতবিদ ও গবেষক কবিরুল বাশার জানান, কোনো কয়েল জ্বালানোর পর যদি মশা মরে যায় কিংবা টিকটিকি বা তেলাপোকা মারা যায়, তবে বুঝতে হবে সেই কয়েলটিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছে অথবা এমন কোনো কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছে যা জনস্বাস্থ্যে ব্যবহারের উপযোগী নয় কয়েল পোড়ার সময় বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ বাতাসে ছড়ায় এবং বদ্ধ ঘরে এর প্রভাব মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সাত থেকে আট ঘণ্টা ধরে জ্বলা একটি কয়েল থেকে যে সূক্ষ্ম কণা বের হয়, তার পরিমাণ ৭৫ থেকে ১৩৭টি সিগারেটের ধোঁয়ার সমান হতে পারে কয়েল পুড়ে উৎপাদিত ফরমালডিহাইডের পরিমাণও একান্নটি বা তার চেয়েও বেশি সিগারেটের সমান হতে পারে
পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ড. জাবেদ খান বলেন, বদ্ধ ঘরে এক রাত কয়েল জ্বালানোর অর্থ হলো ষাট থেকে একশটি সিগারেটের সমান ধোঁয়া ফুসফুসে গ্রহণ করা এছাড়া কয়েলে পাইরেথিন, ইরিথ্রিন, কার্বন মনোক্সাইড, বেনজিন, রঙ ও সুগন্ধি ব্যবহৃত হয় পিএম ২ দশমিক ৫ বা ১০-এর মতো সূক্ষ্ম কণা নাক, গলা ও শ্বাসানালিতে জ্বালা তৈরি করে, ফলে কাশি ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথের গবেষণায় জানা গেছে, কয়েল জ্বালানোর পর ঘরের বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের মতো দূষিত পদার্থও পাওয়া যায় কার্বন মনোক্সাইড রক্তে অক্সিজেন বহনের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে অল্প পরিমাণে হলেও মাথা ব্যথা, ক্লান্তি ও বমি ভাব তৈরি হতে পারে
বাংলাদেশে বাজারে যেসব মশার কয়েল বিক্রি হয়, তার বেশিরভাগই অননুমোদিত বা অঅনুমোদিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা অনুমোদনহীন কয়েলগুলোতে অতিমাত্রায় এবং নিষিদ্ধ কীটনাশক থাকে বাজারে কয়েল ছাড়ার আগে প্রত্যেকটি পণ্যের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্ল্যান্ট প্রোটেকশন উইং থেকে লাইসেন্স নিতে হয় পেস্টিসাইড রেগুলেশন অফিসার ফরহাদ জামান জানান, অনুমোদিত মাত্রায় সক্রিয় উপাদান থাকলে কয়েল অতটা ক্ষতিকর হয় না তবে রাসায়নিক ব্যতীত কোনো বায়ো-কয়েল নামে এখনো এ দেশে কোনো কয়েল রেজিস্ট্রেশন পায়নি
সব বিশেষজ্ঞই এক বাক্যে বলছেন, বদ্ধ ঘরে কয়েল ব্যবহার করা যাবে না এবং কয়েল জ্বালালে দরজা-জানালা খোলা রাখতে হবে পাকিস্তানের বক্ষ ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ বিশেষজ্ঞ ড. শাজলি মনজুর পরামর্শ দেন, কয়েলটি দুই থেকে চার মিটার দূরে এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা আছে এমন স্থানে ব্যবহার করা উচিত আপনি যে কয়েলটি কিনছেন তা অনুমোদিত কি না, তা যাচাই করতে প্যাকেটের গায়ে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন, পিএইচপি নম্বর এবং ফর্মুলেশন লাইসেন্স নম্বর দেখে নেওয়া যেতে পারে বাংলাদেশ সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের ওয়েবসাইট বা পেস্টিসাইড ইনফরমেশন রিপোজিটরি প্ল্যাটফর্মে গিয়ে ওই নম্বর সার্চ করলেই পণ্যটির বৈধতা যাচাই করা সম্ভব

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন