রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,
স্বাস্থ্য ও পুষ্টি

থাইরয়েডের সমস্যা ও ভিটামিন ডি ঘাটতির যোগসূত্র নিয়ে সতর্ক করছেন গবেষকরা

স্বাস্থ্য ডেস্ক

অক্টোবর ১১, ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম

থাইরয়েডের সমস্যা ও ভিটামিন ডি ঘাটতির যোগসূত্র নিয়ে সতর্ক করছেন গবেষকরা

বর্তমানে মানুষের মধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা ব্যাপকভাবে বাড়ছে, যার মধ্যে অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অটোইমিউন থাইরয়েড রোগ। মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন ভুলবশত নিজস্ব থাইরয়েড গ্রন্থিকে বহিরাগত শত্রু মনে করে আক্রমণ করে, তখনই এ ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, বংশগত শারীরিক প্রবণতা, পরিবেশগত প্রতিকূলতা এবং দৈনন্দিন পুষ্টির ঘাটতি এ ধরনের রোগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির সঙ্গে অটোইমিউন থাইরয়েড রোগের একটি প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে এই ভিটামিন অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে হাশিমোটো থাইরয়েডাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা সাধারণের তুলনায় কম পাওয়া গেছে। তবে এই ঘাটতিই সরাসরি রোগ সৃষ্টির প্রধান কারণ, নাকি রোগাক্রান্ত হওয়ার প্রভাবে ভিটামিনের মাত্রা হ্রাস পায়, তা নিশ্চিত করতে এখনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা চলমান রয়েছে।

ভিটামিন ডি ছাড়াও ভিটামিন বি১২, সেলেনিয়াম ও জিঙ্কের ভারসাম্যহীনতা থাইরয়েডের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

অটোইমিউন সমস্যায় ভোগা অনেকের মধ্যেই ভিটামিন বি১২-এর অভাব লক্ষ্য করা যায়। থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন নিঃসরণ ও কোষীয় কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সঠিক পুষ্টির বিকল্প নেই। চর্বিযুক্ত সামুদ্রিক মাছ, ডিমের কুসুম ও ভিটামিন সমৃদ্ধ ফোর্টিফায়েড দুধ ভিটামিন ডি-এর চমৎকার উৎস। সূর্যের আলো থেকেও প্রাকৃতিকভাবে এই ভিটামিন তৈরি হয়, যদিও গুরুতর ঘাটতি পূরণে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত শুধু খাদ্য বা রোদ যথেষ্ট নাও হতে পারে। অন্যদিকে ডিম, দুধ, মাংস ও দুগ্ধজাত খাবার থেকে ভিটামিন বি১২ পাওয়া যায়, যা উদ্ভিজ্জভোজীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সম্পূরক হিসেবে গ্রহণ করতে হতে পারে।

সেলেনিয়াম ও জিঙ্ক খনিজ উপাদান দুটি শরীরের বিপাক ক্রিয়া ও রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাছ, মাংস, ডিম এবং বিভিন্ন জাতের বাদামে সেলেনিয়াম পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত মাত্রায় এই খনিজ গ্রহণ ক্ষতিকর হতে পারে। মাংস, ডাল, বীজ ও সামুদ্রিক খাবারে উপস্থিত জিঙ্ক থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে পরিমিত আয়োডিন অপরিহার্য। তবে অতিরিক্ত আয়োডিন বা চিকিৎসকের নির্দেশনা ছাড়া উচ্চমাত্রার আয়োডিনযুক্ত সম্পূরক সেবন বিপরীত ফল বয়ে আনতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসে প্রচলিত কিছু ধারণা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের ভিন্ন পর্যবেক্ষণ রয়েছে। বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি বা সয়াজাতীয় খাবার স্বাভাবিক পরিমাণে খেলে অধিকাংশ মানুষের থাইরয়েডের কোনো ক্ষতি হয় না। এসব খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে অতিরিক্ত সামুদ্রিক শৈবালের নির্যাস এড়িয়ে চলার পাশাপাশি ধূমপান ত্যাগ, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম থাইরয়েডের সুরক্ষায় অপরিহার্য।

শরীরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, দ্রুত ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত শীতবোধ, কোষ্ঠকাঠিন্য, বুক ধড়ফড় করা কিংবা গলায় ফোলা ভাব দেখা দিলে বিলম্ব না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। থাইরয়েড-স্টিমুলেটিং হরমোন বা টিএসএইচ, ফ্রি টি৪ এবং অ্যান্টিবডি পরীক্ষার মাধ্যমে গ্রন্থির সঠিক অবস্থা নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া উচিত।