অক্টোবর ১২, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
কন্যাশিশু কোনো বোঝা নয় বরং এটি একটি অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত `আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬` উপলক্ষে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি কন্যাশিশুর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং সমাজে তাদের সমান অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জোরালো আহ্বান জানান। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ টেলিভিশন নিউজে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি যেকোনো সহিংসতা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে শূন্য সহনশীলতা বা জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুর শিক্ষা কোনো দয়া বা অনুকম্পা নয়, এটি তার অন্যতম মৌলিক মানবাধিকার। আর প্রতিটি কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা পুরো জাতির পবিত্র দায়িত্ব।
বক্তব্যের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি একটি কন্যাশিশুর জন্মকে একটি নতুন স্বপ্ন, আগামী দিনের অপার সম্ভাবনা এবং একজন গর্বিত নাগরিকের আগমন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, এক ডানায় ভর করে যেমন কোনো পাখি আকাশে উড়তে পারে না, তেমনি অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে কোনো সমাজ বা জাতি উন্নতির চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে না।
চলতি বছরের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে মূলত একটি নিষ্পাপ শৈশবের করুণ সমাপ্তি এবং মানবিক সম্ভাবনার নির্মম অপচয়। সমাজে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির মতো অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আশ্বাস দেন তিনি। অপরাধীদের কোনো ছাড় না দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে যেকোনো সংকটে তাত্ক্ষণিক সহায়তার জন্য জাতীয় জরুরি হেল্পলাইন ১০৯, ১০৯৮ ও ৯৯৯ ব্যবহারে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জোর তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি।
অভিভাবকদের মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, মেয়েকে বোঝা মনে না করে তাদের শিক্ষা ও সার্বিক কল্যাণে নিঃসংকোচে বিনিয়োগ করতে হবে। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও স্বাবলম্বী হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সামর্থ্য অর্জনে পরিবারকে পাশে দাঁড়াতে হবে। পবিত্র কোরআন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার আলোকে সমাজে কন্যাশিশুর প্রতি অবহেলা ও বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি দূর করার পরামর্শ দেন তিনি।
কন্যাশিশুদের অধিকার আদায়ে সচেতন ও সাহসী হওয়ার বার্তা দিয়ে রাষ্ট্রপতি পরামর্শ দেন, তারা যেন নিজ অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়, শিক্ষাকে জীবনের মূল শক্তি হিসেবে আঁকড়ে ধরে এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে। যেকোনো অন্যায়, বৈষম্য বা নির্যাতনের শিকার হলে নীরবে সহ্য না করে বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক কিংবা জরুরি হেল্পলাইনের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন