অক্টোবর ১২, ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক ও সামাজিক অপকর্ম নির্মূল, চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং আসন্ন দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ সংসদ সদস্যদের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দূরত্ব কমানোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার ঘোষণা এসেছে এই শীর্ষ পর্যায় থেকে।
রোববার (১১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের বিশেষ সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। সভায় দলটির ১৯৪ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন।
সভায় দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে অন্তত ২৫ জন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য খোলামেলা আলোচনা করেন। তারা জাতীয় রাজনীতি, এলাকার আইনশৃঙ্খলা, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বিক প্রস্তুতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এরপর সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক সমাপনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই দেশকে অস্থিতিশীল করার নানামুখী অপতৎপরতা চলছে। তার আশঙ্কা, পতিত স্বৈরাচার ও গুপ্ত শক্তি একসঙ্গে হাত মেলাতে পারে। এর ফলে সামনের দিনগুলোতে অস্থিরতা আরও বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সংসদ সদস্যদের সার্বক্ষণিক সজাগ, সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দেন তিনি।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, তিনি পালিয়ে যাওয়ার সময় কাউকে বলে যাননি এবং আসার সময়ও জানিয়ে আসবেন না। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলকে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি ফিরতে চাইলে ফিরবেন, তাকে আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন বলে সভার আলোচনায় উল্লেখ করা হয়।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমান জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা বিধান এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা দলের অগ্রাধিকার। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এবার নিরাপত্তাবোধ থেকেই বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছেন। অতীতে তারা হয়তো অন্য দলকে বেছে নিতেন, তাই তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সেই পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেন, এই নির্বাচন যেকোনো মূল্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে। ভোট প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে—এমন কোনো অভিযোগ সরকার মেনে নেবে না। এই লক্ষ্যে তৃণমূলের সমন্বয়ে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে প্রার্থী করতে হবে।
প্রার্থীকে নিজের জনপ্রিয়তা দিয়েই বিজয়ী হতে হবে। কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা সরকারি সুবিধা পাওয়া যাবে না।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়া, মাদকের বিস্তার এবং গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারিদের দ্রুত জামিনে মুক্তির মতো উদ্বেগের কথা সভায় তোলেন বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য। জবাবে তারেক রহমান জানান, শুরু থেকেই সরকারকে প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে মব তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে এসব বাধা পেরিয়ে আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন