অক্টোবর ১১, ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
রাজধানীর আবদুল গনি রোডে অবস্থিত কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কার্যালয় বাংলাদেশ সচিবালয় সরিয়ে শেরেবাংলা নগরে নিয়ে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনার পর গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানান্তরের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সাথে পরিকল্পনা করা হয়েছে, সচিবালয় সরে গেলে বর্তমান খালি হওয়া চত্বরে পুরান ঢাকার নিম্ন আদালতগুলো স্থানান্তর করা হবে।
এর আগে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক নীতি-নির্ধারণী সভায় সচিবালয় সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে এই প্রাথমিক নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
প্রস্তাবিত এই মেগা-প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে তিন হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। যদিও প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্ত আর্থিক অনুমোদন লাভ করেনি, তবুও মাঠপর্যায়ের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এর নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে চায় সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরপরই প্রকল্পটি দ্রুত রূপায়ণে প্রশাসনিক তৎপরতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ চলছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত সরকারি ভবনগুলোর অবস্থান ও সীমানা নির্ধারণ করে একটি প্রাথমিক নকশাও তৈরি করেছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারি করেছেন। সেই নির্দেশ মেনে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের সব কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সামনে এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক নকশা তুলে ধরা হলে তিনি খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। সেই সংশোধনীগুলো সমন্বয় করেই পরবর্তী কাজের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।
প্রকল্পের প্রাথমিক নথিপত্র অনুযায়ী, এই বিশাল কর্মযজ্ঞের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে চলতি ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পুরো প্রকল্পটিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও নথি গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আনুষ্ঠানিক সভায় উপস্থাপন করা হবে। একনেকের টেবিলে সবুজ সংকেত মিললেই সরাসরি নির্মাণকাজ শুরুর চূড়ান্ত পদক্ষেপ গৃহীত হবে। তবে আগামী ডিসেম্বরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও, নির্ধারিত এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সব আনুষ্ঠানিক দাপ্তরিক প্রস্তুতি শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে কর্মকর্তাদের একাংশের মধ্যে কিছুটা সংশয়ও কাজ করছে।
নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্সের স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক বিন্যাস নিয়ে কাজ করছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনায় তিনটি ভিন্ন বিকল্প নকশা পেশ করা হয়েছে। একনেক থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন নিশ্চিত হলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নির্মাণযজ্ঞ শুরু হবে।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় ঠিক করা হয়েছে, প্রথম ধাপে আগামী তিন বছরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে নতুন ক্যাম্পাসে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে সব কয়টি সুবিশাল বহুতল ভবন নির্মাণ, আধুনিক অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং সামগ্রিক দাপ্তরিক কার্যক্রম পুরোপুরি নতুন আঙিনায় সচল করতে আরও কিছুটা দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হতে পারে।
নতুন প্রশাসনিক কমপ্লেক্স গড়ে উঠলে ঢাকার ট্রাফিক ও সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আসবে। তবে প্রকল্পের প্রাক্কলিত বাজেট, চূড়ান্ত স্থাপত্য নকশা ও বাস্তবায়ন রূপরেখা এখনো একনেকের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন