রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

শীতের মৌসুমে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১১, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম

শীতের মৌসুমে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস

চলতি মৌসুমে দেশে শীতের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার আভাস মিলেছে, যার ফলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের স্থায়িত্বও দৃশ্যমানভাবে কমে আসতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরে নতুন করে শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো পরিস্থিতির কারণেই জলবায়ুর এই অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মহাসাগরের ওই অংশে এল নিনো বর্তমানে পুরোপুরি সক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই জলবায়ুগত অবস্থার পুরোপুরি স্থায়ী থাকার আশঙ্কা শতভাগ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগস্টে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় আট শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে ১৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। এমনকি চলতি অক্টোবর মাসেও দেশের সামগ্রিক তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে অক্টোবর মাসের শেষ দিকে এসে দেশের উত্তরাঞ্চল ও পার্বত্য জেলাগুলোতে ভোরের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে, যার ফলে দিনভর ভ্যাপসা গরম থাকলেও ভোরের বাতাসে কিছুটা শীতের ছোঁয়া মিলবে।

দেশে সাধারণত অক্টোবরের শেষ ভাগ থেকেই ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। এরপর নভেম্বরের শেষ দিকে উত্তর দিক থেকে বয়ে আসতে শুরু করে শীতল হিমেল হাওয়া। কিন্তু এবার শরৎকালেও ভ্যাপসা গরমের তীব্র অনুভূতি খুব একটা কমেনি। উপরন্তু বৃষ্টির ধারাবাহিক ঘাটতি থাকায় বাতাসে আর্দ্রতা ও দীর্ঘস্থায়ী ধুলাদূষণের প্রকোপ অব্যাহত ছিল।

বিজ্ঞানীদের মতে, এল নিনো কোনো আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় বা এক দিনের কোনো সাধারণ প্রাকৃতিক ঘটনা নয়। এটি মূলত সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির তাপমাত্রা এবং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সামগ্রিক চাপের একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিশাল পরিবর্তন। স্বাভাবিক অবস্থায় পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে বাতাস প্রবাহিত হয়ে উষ্ণ পানিকে এশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে ঠেলে রাখে, যার ফলে দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে সমুদ্রের গভীর থেকে ঠান্ডা পানি ওপরের স্তরে উঠে আসে। কিন্তু এল নিনোর প্রভাবে এই নিয়মিত বায়ুপ্রবাহ হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং জমে থাকা উষ্ণ পানি চারদিকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে যায়। এর সরাসরি বিরূপ প্রভাব পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহ এবং ঋতুভিত্তিক তাপমাত্রার ওপর।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিন ৩ দশমিক ৪ অঞ্চলে পানির তাপমাত্রা তিন দশমিক ছয় ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সমুদ্রের এই অতি-উষ্ণতার প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের পাশাপাশি বাংলাদেশের শীত মৌসুমের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে দেশে এবার শীত একেবারেই পড়বে না। বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন, বৃষ্টির তীব্র ঘাটতির কারণে এবার বাতাসে আর্দ্রতা জমে ঘন কুয়াশার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে। ঘন কুয়াশার চাদর দিনের বেলায় সূর্যের আলো আটকে রাখায় দিনের তাপমাত্রা কম অনুভূত হতে পারে, অথচ একই সময়ে রাতের বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকবে। অর্থাৎ দিনের বেলায় ঠান্ডা এবং রাতের বেলায় কিছুটা উষ্ণতার এক ব্যতিক্রমী মিশ্র শীতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দেশ। আবহাওয়ার সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, এবারের শীত তুলনামূলক কম তীব্র হলেও তা থাকবে দীর্ঘ কুয়াশায় ঢাকা।