শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬,

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস দিল আবহাওয়া অফিস

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস দিল আবহাওয়া অফিস

ছবি: Ai

দেশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আনুষ্ঠানিক বিদায় নেওয়ার পরপরই সাগরে নতুন করে জলবায়ুগত পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এই সম্ভাব্য লঘুচাপের প্রভাবে আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর উপকূলীয় জনপদে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে এই বৃষ্টি একযোগে সারাদেশে বিস্তৃত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, শুক্রবার মৌসুমি বায়ু বিদায়ের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমের পরিসমাপ্তি ঘটলেও বৃষ্টি পুরোপুরি থমকে যাবে না। দেশে বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭২ শতাংশ সংঘটিত হয় বর্ষাকালে। এ ছাড়া মার্চ ও এপ্রিল মাসে ৮ শতাংশ, শীতকালে ২ শতাংশ এবং বাকি ১৮ শতাংশ বৃষ্টিপাত বছরের অন্যান্য সময়ে হয়ে থাকে। বিশেষ করে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে তার পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ প্রভাবেও বৃষ্টি ঝরে।

শনিবার সারাদেশে তাপমাত্রার তীব্রতা এবং বৃষ্টি কম থাকায় সামগ্রিক আবহাওয়া বেশ স্বস্তিদায়ক ছিল। এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৩৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৬ জুন টেকনাফ উপকূল দিয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রবেশের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে সারাদেশে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। দীর্ঘ প্রায় চার মাস সক্রিয় থাকার পর শুক্রবার এটি বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে বিদায় নেয়।

মৌসুমি বায়ু সরে যাওয়ায় সাধারণত বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কমে আসে, আকাশ ধীরে ধীরে মেঘমুক্ত হতে থাকে এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য হ্রাস পায়। এর ফলে ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি কমে আসার পাশাপাশি দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান বাড়তে শুরু করে। এই পরিবর্তনের সূত্র ধরে অক্টোবরের শেষ দিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শীতের প্রাথমিক আমেজ অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক উল্লেখ করেন, মৌসুমি বায়ু বিদায়ের পর বাতাসের গতিপথ বদলে গিয়ে উত্তর-পশ্চিম কিংবা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে বইতে পারে। এই পরিবর্তনের কারণে সামগ্রিক পারদ খুব দ্রুত না কমলেও বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা হ্রাস পেয়ে গরমের অনুভূতি অনেকটাই কমে আসবে।

মৌসুমি বায়ু বিদায় নিলেও বৃষ্টি সম্পূর্ণ বন্ধ হচ্ছে না। বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসজুড়ে বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপ ও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে সংস্থাটি।