সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬,
মাঠের কৃষি

নীলফামারীতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষক

কৃষি ডেস্ক

অক্টোবর ১১, ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম

নীলফামারীতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষক

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠজুড়ে এখন আগাম জাতের আলু চাষের ব্যস্ততা চলছে। আমন ধান কাটার পরপরই জমি ফেলে না রেখে বংশপরম্পরায় এ অঞ্চলের কৃষকেরা আগাম আলু আবাদ করে আসছেন। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না দেখা দিলে এবারও ভালো ফলন ও বাড়তি মুনাফার আশা করছেন তারা।

মাঠজুড়ে কৃষকদের পাশাপাশি কৃষি শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য চোখে পড়ার মতো। কেউ জমিতে রাসায়নিক ও জৈব সার ছিটাচ্ছেন, কেউ বীজ আলু রোপণ করছেন, আবার শ্রমিকদের একটি দল কোদাল হাতে সেই বীজ মাটি দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন।

গত মৌসুমে ভালো দাম পাওয়ায় চলতি মৌসুমেও ১৩ বিঘা জমিতে সেভেন জাতের আলুর আবাদ করেছেন কৃষক মুরসালিন হাসান। স্বল্পমেয়াদি ফসল হওয়ায় দ্রুত ফসল ঘরে তুলে লাভের মুখ দেখতে চান এই তরুণ। তিনি জানান, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে এই আলু জমি থেকে তোলা সম্ভব হয়। শীতের আগমনী সময়ে বাজারে আলুর সরবরাহ কম থাকায় সে সময় তুলনামূলক চড়া দাম পাওয়া যায়।

উপজেলার কৃষকেরা সেভেন ছাড়াও গ্রানোলা, সানশাইন ও কারেজসহ বেশ কিছু উচ্চফলনশীল ও আগাম জাতের আলু চাষ করছেন।

ভারী বৃষ্টিপাত কিংবা অতিরিক্ত কুয়াশার প্রকোপ না হলে এই ফসলেই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা। স্থানীয় কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, ধানের পর দুই মাস জমি ফাঁকা থাকার সময় এই চাষ করা হয়। এতে বিঘা প্রতি প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ পড়ে। বাজারে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে প্রতি বিঘায় উৎপাদিত আলু ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হয়।

আগাম আলু আবাদ স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

আমন ধান কাটার পর মাঠে ফসল না থাকায় কৃষি শ্রমিকদের সাধারণত অলস সময় কাটাতে হতো। আগাম আলু চাষের ফলে এই অন্তর্বর্তী সময়ে গ্রামীণ দিনমজুরদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিকেরা জানান, অন্য সময়ে কাজ না থাকলেও এখন সারাদিন মাঠে শ্রম দিয়ে দিনশেষে প্রায় ৫০০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন, যা তাদের সংসার পরিচালনায় সহায়তা করছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এ অঞ্চলের উৎপাদিত আলু সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। কৃষকদের ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হলে তা স্থানীয় চাষিদের ভাগ্যোন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখবে।