অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
বীরগঞ্জে হঠাৎ বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার আগাম সবজি ও আলুর মাঠ। ভরা বর্ষার মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা না মিললেও আশ্বিনের শেষ সপ্তাহে এসে দিনভর ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে উপজেলার অধিকাংশ ফসলি জমি। জ্বালানি তেল ও সারের সংকটের ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এই আকস্মিক দুর্যোগে কৃষকদের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী উপজেলায় ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই আকস্মিক ভারী বর্ষণে দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার পাশাপাশি আগাম জাতের আলু, নানা জাতের শাকসবজি এবং রবি মৌসুমের উঠতি ফসল নষ্ট হওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বীরগঞ্জ উপজেলায় মোট আবাদযোগ্য কৃষি জমির পরিমাণ ৩২ হাজার ৮৯৬ হেক্টর। এর মধ্যে আমন ধান চাষ হয়েছে ২৯ হাজার ৫৯২ হেক্টর জমিতে। এছাড়া আগাম জাতের আলু ৪০ হেক্টর, ফুলকপি ৩১২ হেক্টর, বাঁধাকপি ৫৫ হেক্টর, বেগুন ২০০ হেক্টর, শসা ৩০ হেক্টর, লাউ ৮৩ হেক্টর, শিম ১২ হেক্টর এবং করলা আবাদ করা হয়েছে ২ হেক্টর জমিতে। অবশিষ্ট জমিতে অন্যান্য রবি ফসলের চাষাবাদ চলছে।
মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, পানি জমে থাকায় সবজির গোড়ায় পচন ধরার ঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
নিজপাড়া ইউনিয়নের দামাইক্ষেত্র গ্রামের সবজি চাষি মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় এক একর জমিতে আগাম জাতের ফুলকপির চারা রোপণ করেছিলেন, যা আর কয়েকদিনের মধ্যেই বাজারে বিক্রির উপযোগী হতো। কিন্তু জমিতে পানি আটকে থাকায় চারাগুলোর গোড়ায় পচন ধরে গাছ মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত পানি নেমে না গেলে তার পুরো মৌসুমের পরিশ্রমই বৃথা যাবে।
একই দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন সুজালপুর ইউনিয়নের চাকাই গ্রামের কৃষক মহবুল ইসলাম।
তিনি জানান, নানা শঙ্কা ও বাড়তি খরচের মুখে প্রায় সাত একর জমিতে আগাম জাতের আলুর বীজ রোপণ করেছিলেন। বৃষ্টির তোড়ে বীজের ওপরের মাটি ধুয়ে গেছে এবং পানি জমে থাকায় বীজগুলো পচে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। জমিতে নতুন করে আবার বীজ বপন করতে হলে আগের সমুদয় বিনিয়োগই লোকসানে পরিণত হবে।
কৃষি বিভাগ অবশ্য দ্রুত পানি নিষ্কাশন হলে ক্ষতি সীমিত থাকার আশা প্রকাশ করছে।
উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ কাশেম আলী জানান, আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ মাঝে মাঝে স্থানীয় কৃষিতে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যার প্রভাব আগাম সবজি ও আলু চাষে সবচেয়ে বেশি পড়ে।
তিনি উল্লেখ করেন, খেত থেকে দ্রুত পানি নেমে গেলে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কম হবে। দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে কৃষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও কারিগরি পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন