বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,
স্মার্ট কৃষি

কম খরচে অধিক ফলন: স্মার্ট কৃষির মাধ্যমে যেভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা

কৃষি ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

কম খরচে অধিক ফলন: স্মার্ট কৃষির মাধ্যমে যেভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা

যুগে যুগে এদেশের অর্থনীতি ও প্রাণের স্পন্দন ধরে রেখেছে কৃষি। একসময় কৃষকরা আকাশের অবস্থা দেখে কিংবা হাতে মাটি নিয়ে উর্বরতা ও জলবায়ু যাচাই করার চেষ্টা করতেন। তবে সময়ের পরিবর্তনে কৃষিক্ষেত্রেও যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বা ফোর আইআরের হাত ধরে বিশ্বজুড়ে কৃষির রূপান্তর ঘটছে, যার মূল ভিত্তি হলো স্মার্ট কৃষি।

কৃষিতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোন। ড্রোনের মাধ্যমে এখন খুব অল্প সময়ে বিশাল জমিতে সমহারে কীটনাশক ও সার স্প্রে করা সম্ভব হচ্ছে। এতে যেমন সারের অপচয় কমে, তেমনি ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শ থেকে কৃষকের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে। এছাড়া ড্রোনে থাকা মাল্টিস্পেক্ট্রাল ক্যামেরার সাহায্যে মাঠের কোন অংশের ফসল রোগাক্রান্ত বা পানির অভাবে ভুগছে, তা উপর থেকেই নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করা যায়।

মাটির নিচের অবস্থা জানতে এবং নিখুঁত চাষাবাদ নিশ্চিত করতে ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি এবং স্মার্ট সেন্সর প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটিয়েছে। মাটির আর্দ্রতা, পিএইচ মাত্রা ও পুষ্টির পরিমাণ রিয়েল টাইমে পরিমাপ করছে এসব সেন্সর। আইওটির কল্যাণে সেন্সরের সংগৃহীত ডেটা সরাসরি কৃষকের স্মার্টফোনে চলে যাচ্ছে, যার ফলে ঘরে বসেই কৃষক জানতে পারছেন কখন জমিতে পানি বা সার দিতে হবে। স্বয়ংক্রিয় সেচ ব্যবস্থার কারণে অতিরিক্ত এক ফোঁটা পানি বা বিদ্যুতের অপচয় রোধ করা সম্ভব হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোসাম্মদ ফরিদা পারভীন এ বিষয়ে বলেন, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন উৎপাদনশীলতা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসছে। ফলে কৃষকরা সামগ্রিকভাবে অনেক বেশি লাভবান হচ্ছেন। দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং প্রতি বছর কৃষিজমি হ্রাসের বাস্তবতায় অল্প জমি থেকে অধিক ফলন পেতে এই প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষির কোনো বিকল্প নেই।

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলাতেও আধুনিক প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। খরা, লবণাক্ততা কিংবা পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ বন্যা দেখা দিলে ড্রোন ও স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে অতি দ্রুত ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়। এর মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন কার্যক্রমে সঠিক সহায়তা প্রদান করা সহজ হয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত অটোমেটিক আবহাওয়া স্টেশনগুলোর মাধ্যমে আগামী ১০ থেকে ১২ দিন আগের আবহাওয়ার পূর্বাভাস বুলেটিন কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সনাতন কৃষিকে অনুমাননির্ভর না রেখে সম্পূর্ণ তথ্যনির্ভর ও আধুনিক খাতে রূপান্তর করার সময় এসেছে। ড্রোন, আইওটি এবং সেন্সর প্রযুক্তির সঠিক ও পরিমিত ব্যবহারের মাধ্যমেই কেবল বাংলাদেশের কৃষিকে ঝুঁকিমুক্ত, লাভজনক এবং একটি অত্যন্ত আধুনিক পেশা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।