অক্টোবর ১২, ২০২৬, ০১:১০ পিএম
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া, যা আকাশপথে অন্তত ৯০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে বলে সামরিক পর্যবেক্ষণে নিশ্চিত করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) পিয়ংইয়ং থেকে দূরপাল্লার একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রের এই আকস্মিক উৎক্ষেপণ চালানো হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ বা জেসিএস জানিয়েছে, নিক্ষেপ করা অস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্তত একটি উল্লেখযোগ্য পাল্লা অতিক্রম করে। তবে ঠিক কতটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করেনি সিউল।
জাপানের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ড থেকে দুটি অজ্ঞাত বস্তু উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই তা সমুদ্রের পানিতে আছড়ে পড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এই সামরিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বারবার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার সরাসরি ও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পিয়ংইয়ংকে অবিলম্বে এই জাতীয় উসকানিমূলক তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে দেশটির শীর্ষ প্রশাসন।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের মুখপাত্র জং দো-ইয়ং উল্লেখ করেন, এটি সম্ভবত তাদের সদ্য পরিচালিত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পাল্টা জবাব হিসেবে উত্তর কোরিয়ার পেশিশক্তি প্রদর্শনের একটি মরিয়া চেষ্টা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং সশরীরে উপস্থিত থেকে দেশটির ইতিহাসের প্রথম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করেন। কোনো ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে এ ধরনের সমরাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর নজির কোরীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত বিরল।
প্রেসিডেন্ট লির কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে তাদের হাইপারসনিক অস্ত্রটি পূর্ণ সক্ষমতা পেলে তা কোরীয় উপদ্বীপের যেকোনো কৌশলগত ঘাঁটিতে চোখের পলকে আঘাত হানতে পারবে।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে গত ৩ অক্টোবর উত্তর কোরিয়াও একটি মাঝারি পাল্লার হাইপারসনিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল। সেই সময় পিয়ংইয়ং দাবি করে, তাদের নতুন অস্ত্রটি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের যৌথ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেদ করতে পুরোপুরি সক্ষম।
সাম্প্রতিক অস্ত্র পরীক্ষার পেছনে সীমান্ত বিরোধের প্রত্যক্ষ উত্তাপও কাজ করছে। গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যবর্তী ডিমিলিটারাইজড জোন বা ডিএমজেডে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিনজন সেনাসদস্য গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার পর সিউল আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে উত্তর কোরিয়ার কাছে ক্ষমা দাবি করে।
জাতিসংঘ ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অনুসন্ধানে উঠে আসে, প্রায় এক বছর আগে উত্তর কোরিয়ার সেনারাই গোপনে সীমান্ত রেখায় ওই দুটি মাইন পুঁতে রেখেছিল। তবে তদন্তের এই ফলাফল পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে পিয়ংইয়ং। নিজেদের দায় অস্বীকার করে উল্টো দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধেই সীমান্তে পরিকল্পিত উত্তেজনা তৈরির পাল্টা অভিযোগ এনেছে দেশটি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন