সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬,

অবৈধ অভিবাসন শূন্যে নামাতে চায় বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১২, ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

অবৈধ অভিবাসন শূন্যে নামাতে চায় বাংলাদেশ

অবৈধ অভিবাসন শূন্যে নামাতে চায় বাংলাদেশ, যাতে ইউরোপের মূল শ্রমবাজারে শতভাগ বৈধ ও আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ কর্মী পাঠানোর নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। এই লক্ষ্য সামনে রেখে মানবপাচার চক্র দমন, দক্ষ জনশক্তির আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদান এবং ডিজিটাল সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল।

প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার।

দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ, বৈধ পথে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, অবৈধ পথে ঝুঁকি নিয়ে বিদেশযাত্রার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কঠোর জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথ বা মানবপাচারের হাত থেকে দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের রক্ষা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বাংলাদেশের নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করে জানান, মানবপাচার প্রতিরোধ ও অবৈধ সীমান্ত পারাপার বন্ধ করা উভয় পক্ষেরই অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ইউরোপের ভেতরে অনিয়মিত প্রবেশ বন্ধ হলে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ শ্রমিকদের বৈধ প্রক্রিয়ায় কাজের সুযোগ পাওয়া অনেক বেশি সহজ হবে।

বৈধ জনশক্তি রপ্তানি ত্বরান্বিত করতে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বৈঠকে সমঝোতা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ নেওয়া প্রায় ৭৫০ জন দক্ষ কর্মীর ইউরোপীয় স্বীকৃতির জটিলতা নিরসনে সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব পরীক্ষকদের বাংলাদেশে এসে সরাসরি প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় প্রতিনিধি দল এই প্রস্তাবে অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

দেশের নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিমান, সমুদ্র ও স্থলবন্দরে অপরাধী শনাক্ত এবং যাত্রী চলাচল পর্যবেক্ষণে ‘অ্যাডভান্সড প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন অ্যান্ড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে। এই আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা সরাসরি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মূল ডেটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

একই সাথে ইউরোপীয় বর্ডার অ্যান্ড কোস্ট গার্ড এজেন্সি ফ্রন্টেক্সের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া নিয়ে কথা হয়েছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দীর্ঘায়িত সংকট তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা এই সংকটকে কেবল বাংলাদেশের নয়, বরং গোটা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পরিণত করেছে।

রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টির অনুরোধ জানান তিনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল এই মানবিক সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যৌথ কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার পূর্ণ আশ্বাস দেয়।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডিরেক্টর হেনরিক নিলসেন, ক্যাবিনেট সদস্য গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি হেড অব মিশন বাইবা জারিনা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন।