অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে অবস্থিত টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। নিহতদের মধ্যে তিনটি পৃথক বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীসহ একই পরিবারের ছয় সদস্য রয়েছেন। শনিবার সকাল সাতটার দিকে ইনানীর এই কাঠের তৈরি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে।
নিহত তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের পঞ্চম ব্যাচের নাফিজ তেহামী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের লায়লা জাহান নাবিলা এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মেলিতা মেহেজাবিন আলভী। তারা সবাই পর্যটক হিসেবে অবকাশ যাপনে সেখানে গিয়েছিলেন।
একই পরিবারের মোট নয়জন সদস্য রিসোর্টটিতে অবকাশ যাপনে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ছয়জন। নিহত পরিবারের অন্য সদস্যরা হলেন মালিহা, মিলা ও সাবরিন।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার নিশ্চিত করেছেন যে রিসোর্টটিতে অবস্থান নেওয়া আব্দুল আহাদ সরদারের পরিবারের নয় সদস্যের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের বাকি তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, সকাল সাতটা ২৩ মিনিটে তাদের কাছে আগুনের খবর পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সকাল আটটায় দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর তৎপরতা শুরু করেন এবং সকাল সোয়া আটটার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, রিসোর্টটিতে মোট ২৭ জন পর্যটক প্রবেশের তথ্য পাওয়া গেছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় তাদের মধ্যে নয়জন স্থাপনাটির বাইরে অবস্থান করছিলেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, হতাহত ব্যক্তিদের সবাই পর্যটক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি জানান, কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে নাফিজ তেহামীসহ পরিবারের ছয়জন এই আগুনে নিহত হয়েছেন। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এতে শোকাহত। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দগ্ধ ও আহত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় জানানো হয়, তাদের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলার মর্মান্তিক অকালমৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের মানসিক শক্তি ও ধৈর্য কামনা করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন