অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে উড্ডয়ন বন্ধ থাকায় গত সাত দিনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে ওই দুই গন্তব্যের ১৭ হাজার ৭০১ জন যাত্রী চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন। ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে গত ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
যাত্রীদের এই বিশাল ধাক্কা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে এয়ারলাইন্সগুলো। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ শনিবার বিকেলে ফ্লাইট বাতিলের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সরাসরি বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৮টি, ইউএস-বাংলার ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ১২টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে।
এর বাইরে সংযোগকারী বা ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যেও বড় ধরনের বাতিল তালিকা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইন্ডিগো এয়ারের ২২টি, এমিরেটস এয়ারের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার পাঁচটি ফ্লাইট।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট বাতিলের এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের কর্মস্থলে ফেরা সহজ করতে বিকল্প উদ্যোগ নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে সৌদিগামী প্রবাসীরা জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহার করে সেদেশে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। মদিনা রুটে নিয়মিত বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজের বদলে বড় পরিসরের বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে প্রতিটি ফ্লাইটে আসন সংখ্যা বেড়েছে ১৪৮টি। পাশাপাশি যাত্রীদের চাপ সামলাতে জেদ্দা রুটে নতুন করে অতিরিক্ত তিনটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে কর্মস্থলে ফেরা নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকার বলাকা প্রধান কার্যালয়ে বিমানের টিকিট পরিবর্তনের জন্য শত শত প্রবাসীকে ভিড় করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে যাত্রীরা রিয়াদ ও দাম্মামের টিকিট পরিবর্তন করে জেদ্দা কিংবা মদিনার বিকল্প ফ্লাইটের টিকিট সংগ্রহ করছেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত যাত্রীদের টিকিট পরিবর্তনের দাপ্তরিক সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে দেওয়া হচ্ছে।
বিকল্প বিমানবন্দরে নেমে দীর্ঘ সড়কপথ পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে যাত্রীদের বাড়তি অর্থ ও অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। তবে ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া এবং নির্ধারিত ছুটির মধ্যে কর্মস্থলে পৌঁছানোর তাগিদে অনেক প্রবাসী অতিরিক্ত খরচ মেনে নিয়েই যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংকট দ্রুত কাটিয়ে স্বাভাবিক আকাশ যোগাযোগ চালুর প্রত্যাশা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন