অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে বাংলাদেশের সার্বিক অস্তিত্ব মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ত বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তার দাবি, ওই ভোট না হলে দেশের পরিণতি সিকিমের মতো হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) জামালপুর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় মন্ত্রী ও জেলার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সম্মাননা জানাতে এই সভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতে মন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অতীত রাজনৈতিক নির্দেশনার কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন প্রতিকূল সময়ে দলীয় প্রধান যেসব রাজনৈতিক দূরদর্শী বক্তব্য দিয়েছিলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেগুলোর বাস্তবতা ও তাৎপর্য পুরোপুরি প্রমাণিত হচ্ছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন বিমানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, সেই সরকারের সময় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি ও বসতবাড়ি দখলের ঘটনার সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীরা সরাসরি জড়িত ছিলেন। নিজেদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় বিরোধীদের ঘাড়ে চাপানো হতো। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে পরিকল্পিতভাবে একটি উগ্রবাদী রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।
গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা হারানো রাজনৈতিক শক্তির পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি অবাস্তব বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কোনো সরকার পুনরায় আগের অবস্থানে ফিরতে পেরেছে—এমন কোনো নজির বিশ্ব বা দেশের ইতিহাসে নেই।
বর্তমানে দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের পেছনে পূর্ববর্তী প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাহীনতাকে দায়ী করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ভবিষ্যৎ জাতীয় চাহিদাকে বিবেচনায় না রেখে নতুন গ্যাসকূপ খনন কিংবা টেকসই জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দূরদর্শিতার এই ঘাটতির কারণেই এখন সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামালপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল হক। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু, জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফরিদুল কবির শামীম তালুকদার এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি।
বক্তব্য পর্বের সমাপ্তিতে জেলা পরিষদের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন উপজেলার স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিনিধিদের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন