অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
ভারতের আসামে বাঙালি মুসলিমদের এক হাজার ১০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারতের মুসলিমরা সে দেশেরই নাগরিক এবং মুসলিমরাও পূর্ণাঙ্গ ভারতীয়। বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিস্তারিত বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, সম্প্রতি আসামে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে বাঙালি মুসলিমদের এক হাজার ১০০টির বেশি বসতবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। শুধু বসতবাড়িই নয়, অভিযানের সময় অন্তত ১০টি মসজিদও ধ্বংস করা হয়েছে বলে বিভিন্ন তথ্যে জানা গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি মসজিদ অর্ধশতাব্দীরও বেশি পুরোনো ছিল।
সরকারি ও বনভূমি থেকে কথিত অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের অজুহাত তুলে এই অভিযান চালানো হলেও এর বাস্তবতা ভিন্ন বলে দাবি করেন তিনি।
ভারতীয় গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারগুলোর ওই অঞ্চলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি ভারতের স্বাধীনতার আগের সময়কাল থেকেই বহু পরিবার এসব এলাকায় বংশপরম্পরায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিল।
যথাযথ পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থার কোনো সুযোগ না রেখেই পরিবারগুলোকে খোলা আকাশের নিচে গৃহহীন করে ফেলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি উচ্ছেদের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের অনেককে বিভিন্ন আটককেন্দ্রে বন্দি করে রাখা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ তোলেন, আসামের এই উচ্ছেদ অভিযান বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং ভারতে বাঙালি মুসলিমদের প্রতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বৈষম্য ও ধারাবাহিক নিপীড়নেরই একটি স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে দেশটির সার্বিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
গত এক দশকে দেশটিতে প্রায় ১৯ হাজার পরিবার একইভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলেও তিনি পরিসংখ্যানে তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, বছরের পর বছর ধরে ভারতের বাঙালি মুসলিম জনগোষ্ঠী নানা ধরনের নিপীড়ন, সীমান্ত ঠেলে পাঠানোর অপচেষ্টা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মতো গভীর সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্য দিয়ে মুসলিম সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা তাদের সাংবিধানিক অধিকার ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
আসামের এই বর্বর উচ্ছেদ অভিযানের তুলনা করতে গিয়ে ১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রসঙ্গ টেনে আনেন বিরোধীদলীয় এই নেতা।
তিনি বলেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সেই ঘটনা ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের এক স্থায়ী প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। নাহিদ ইসলামের দাবি, হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক নীতির প্রভাবে ভারত রাষ্ট্র আজ মুসলিম, খ্রিষ্টান, শিখসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং প্রান্তিক দলিত বা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের মৌলিক নিরাপত্তা প্রদানে পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের এই অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপের ঘটনায় ভারত সরকারকে আন্তর্জাতিক জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জোর দাবি জানান।
বিবৃতির সমাপ্তি টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতি, ধর্ম বা সাংস্কৃতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের জন্য সমান নাগরিক মর্যাদা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের আবশ্যিক কর্তব্য।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন