বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ফোন হারিয়ে গেলেও ফিরে পাবেন হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট জেনে নিন নিয়ম

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম

ফোন হারিয়ে গেলেও ফিরে পাবেন হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট জেনে নিন নিয়ম

ফোন হারিয়ে গেলেও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রেখে দ্রুত নিজের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। স্মার্টফোন হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়ার ঘটনায় শুধু আর্থিক ক্ষতিই ঘটে না, বরং মুঠোফোনে সংরক্ষিত সংবেদনশীল তথ্য, ব্যক্তিগত ছবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে দৈনন্দিন ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপের ওপর নির্ভরতা থাকে সবচেয়ে বেশি। সঠিক সময়ে কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এই বিপদের ঝুঁকি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা যায়।

হ্যান্ডসেট হাতছাড়া হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া মাত্রই প্রথম কাজ হলো নিজের মুঠোফোন সংযোগ প্রদানকারী অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিম কার্ডটি সাময়িকভাবে বন্ধ বা ব্লক করে দেওয়া।

তাৎক্ষণিকভাবে সিমটি বন্ধ না করলে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি ওটিপি বা যাচাইকরণ বার্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।

সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকে একই নম্বরের একটি বিকল্প বা রিপ্লেসমেন্ট সিম কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।

এরপর নতুন একটি হ্যান্ডসেটে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপ্লিকেশনটি নামিয়ে পুরনো নম্বরটি দিয়ে নতুন করে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নতুন সিমে আসা বার্তা বা কলের মাধ্যমে পাওয়া যাচাইকরণ সংকেত প্রবেশ করানোর সঙ্গে সঙ্গে আগের হারানো ডিভাইসটি থেকে অ্যাকাউন্টটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগআউট হয়ে যাবে। এই প্রক্রিয়ায় অন্য কোনো ডিভাইস থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

এখানে একটি জরুরি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয়ে কেউ ওটিপি চাইলে তা কোনো পরিস্থিতিতেই কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। অফিশিয়াল কোনো কর্তৃপক্ষ কখনোই গ্রাহকের কাছে এমন সংকেত জানতে চায় না।

নতুন ফোনে লগইন সম্পন্ন হওয়ার পর পুরনো বার্তা বা চ্যাট ফেরত পাওয়া যাবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে পূর্বে ক্লাউড ব্যাকআপ চালু ছিল কি না তার ওপর।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ক্ষেত্রে গুগল ড্রাইভে এবং আইফোনের ক্ষেত্রে আইক্লাউডে যদি নিয়মিত ব্যাকআপ রাখা থাকে, তবে লগইনের পর সহজেই পুরনো সমস্ত বার্তা ও মিডিয়া ফাইল পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়। ব্যাকআপ আগে থেকে সক্রিয় না থাকলে পুরনো আলাপচারিতা ফিরে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।

হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে সরাসরি কোনো ডিভাইসের ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত বা ট্র্যাক করা যায় না।

হারিয়ে যাওয়া ফোনের অবস্থান জানতে অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে গুগল ফাইন্ড হাব (যা পূর্বে ফাইন্ড মাই ডিভাইস নামে পরিচিত ছিল) এবং অ্যাপল ডিভাইসের ক্ষেত্রে ফাইন্ড মাই সুবিধা কাজে লাগানো যেতে পারে। এই সেবাগুলোর মাধ্যমে দূর থেকেই ফোনের ভৌগোলিক অবস্থান দেখা কিংবা প্রয়োজনে ডিভাইসের সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য স্থায়ীভাবে মুছে দেওয়া সম্ভব।

এর পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপের লিঙ্কড ডিভাইসেস বিভাগে গিয়ে কোনো অপরিচিত কম্পিউটার বা ব্রাউজার যুক্ত থাকলে তা অবিলম্বে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে।

ডিভাইস হারানোর পরপরই অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অ্যাকাউন্টের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সমান জরুরি।

ইমেইল, ফেসবুকসহ সব অনলাইন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড অবিলম্বে পরিবর্তন করে নিতে হবে। বিকাশ, নগদ কিংবা যেকোনো ব্যাংকিং অ্যাপ্লিকেশন চালু থাকলে সেগুলোর অপব্যবহার ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নম্বরে ফোন করে অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করার অনুরোধ জানাতে হবে। একই সঙ্গে হ্যান্ডসেটের আন্তর্জাতিক মোবাইল স্টেশন যন্ত্রাংশ শনাক্তকরণ বা আইএমইআই নম্বর উল্লেখ করে নিকটবর্তী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করে রাখা আইনি নিরাপত্তার জন্য আবশ্যক।