বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হওয়ায় বিএনপির দরদ বেশি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম

গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হওয়ায় বিএনপির দরদ বেশি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক অবদান তুলে ধরে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান। এই কারণে এই শিল্পের প্রতি বিএনপির দরদ সবচেয়ে বেশি। দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই শিল্পের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিএনপি সব সময় আন্তরিক রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভার শুরুতে পোশাক শিল্পের সাম্প্রতিক আন্দোলন বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার পোশাক শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির প্রতি আন্তরিক। তাই শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে দ্রুততম সময়ে কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করা হয়েছে।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ফটোসাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। এটি কেবল আর্থিক সহায়তার বিষয় নয়, বরং তাদের অবদানের স্বীকৃতি, সম্মান ও মর্যাদার বিষয়।

সভায় বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের বা বিপিজেএর নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রতিমন্ত্রী এবং তাদের সমস্ত সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন।

সংগঠনটির কার্যালয় সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিপিজেএর জন্য একটি স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে যে ভবন বা জায়গা নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে, সেটির প্রকৃত অবস্থা ও আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।

সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই আইন নিয়ে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা চলছে। সবার মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করতে চায় না।

তিনি বলেন, আইনটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রকৃতির। আমরা চাই, এই আইনটি যেন প্রকৃত অর্থেই সমাজের সবাইকে যথাযথ সুরক্ষা দিতে পারে। এই উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষ করেই সরকার চূড়ান্ত পর্যায়ে যেতে চায়।

মতবিনিময় সভায় বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসিন ফটোসাংবাদিকদের পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা ও যৌক্তিক দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত পনেরো বছরে ফটোসাংবাদিকদের একটি বড় অংশ নানা ধরনের প্রতিকূলতা, নির্যাতন ও পেশাগত বাধার মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত তারা রাজপথে থেকে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে সংবাদচিত্র ধারণ করেছেন।

বিপিজেএ সভাপতি বলেন, ফটোসাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি দেশের ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংরক্ষণের মাধ্যম। আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ঐতিহাসিক সাক্ষ্য বহন করে তাদের তোলা ছবি। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফটোসাংবাদিকরা চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করে দেশ-বিদেশে জনমত গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

তিনি বলেন, সংগঠনটির স্থায়ী কার্যালয় নিশ্চিত করা হলে ফটোসাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ গ্রহণ, সভা-সেমিনার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেকটাই সহজ হবে।

সভায় বিপিজেএর সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার বলেন, ফটোসাংবাদিকরা গত দেড় দশকে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শারীরিক নির্যাতন, হামলা, মামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা রাজপথে থেকে সংবাদচিত্র ধারণ করেছেন। তাদের তোলা ছবি দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও আন্দোলনের বাস্তব চিত্র নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছে।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে নুরুদ্দিন আহমেদ, এ বি এম রফিকুর রহমান, নাসিম সিকদার এবং দেলোয়ার হোসেন বাদল গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। এ সময় বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যেরাও উপস্থিত ছিলেন।