মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

লটারিতে পদায়ন পাওয়া শিক্ষকদের পারস্পরিক বদলির দাবি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৫:২০ পিএম

লটারিতে পদায়ন পাওয়া শিক্ষকদের পারস্পরিক বদলির দাবি

ছবি: Ai

লটারির মাধ্যমে পদায়ন পাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত পারস্পরিক বদলির সুযোগ চালুর দাবি জানিয়েছেন সহকারী শিক্ষক ২০২৫ ব্যাচের শিক্ষকরা। যাতায়াত, বাসস্থান সংকট, পারিবারিক দায়িত্ব এবং সার্বিক নিরাপত্তাজনিত সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে একটি স্বচ্ছ, সহজ ও দ্রুত প্রক্রিয়া চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি তোলেন শিক্ষকেরা। এতে বিশেষ করে নারী শিক্ষকদের পারিবারিক অবস্থান ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পারস্পরিক বদলির আবেদনে অগ্রাধিকার বা বিশেষ প্রক্রিয়া প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষকেরা উল্লেখ করেন, লটারির মাধ্যমে পদায়ন কার্যকর করায় বহু শিক্ষককে তাঁদের স্থায়ী আবাস থেকে অনেক দূরে, এমনকি দুর্গম হাওর ও চরাঞ্চলে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এর ফলে আবাসন, নিয়মিত যাতায়াত ও দৈনন্দিন পারিবারিক দায়িত্ব পালনে তাঁদের প্রতিদিন নানা বাস্তব প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

এই অচলাবস্থা নিরসনে যেসব শিক্ষক পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কর্মস্থল বিনিময় করতে আগ্রহী, তাঁদের অবিলম্বে এই সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষক প্রতিনিধিদের মতে, পারস্পরিক বদলি কার্যকর হলে উভয় পক্ষের সম্মতি ও সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং সরকারি কাজে কোনো শূন্যতা তৈরি না করেই যাতায়াতজনিত শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি অনেকাংশে হ্রাস পাবে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চল, চরাঞ্চল ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকার শিক্ষকদের জন্য এই নীতি চালু করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

নারী শিক্ষকদের সুরক্ষা ও সামাজিক বাস্তবতার বিষয়টি আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে বিবৃতিতে। পারিবারিক দায়িত্ব সামলানো, যাতায়াতের নিরাপত্তা এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতা বিবেচনায় নিয়ে নারী শিক্ষকদের আবেদনে অগ্রাধিকার দিলে তাঁরা কর্মস্থলে আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

শিক্ষক নেতারা আরও স্পষ্ট করেন, পারস্পরিক বদলির দাবি কেবল শিক্ষকদের ব্যক্তিগত সুবিধার প্রশ্ন নয়; এটি সরাসরি শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের অনুকূল পরিবেশের সঙ্গে জড়িত।

একজন শিক্ষক যদি কর্মস্থলে নিরাপদ, মানসিকভাবে সুস্থ ও দুশ্চিন্তামুক্ত থাকেন, তবেই শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্রাণবন্ত ও আনন্দময় পাঠদান পরিবেশ তৈরি সম্ভব। শিক্ষকদের বাস্তব সমস্যা দ্রুত সমাধান করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আরও শিক্ষাবান্ধব করে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।