শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জাতিসংঘে দায়িত্ব পেলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

জাতিসংঘে দায়িত্ব পেলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা বা লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, সভাপতির কার্যালয়ে তিনি সার্বিক আইনি ও নীতিগত বিষয়াবলি নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকায় জাইমা রহমানের নাম ও লিগ্যাল অফিসার পদবির উল্লেখ রয়েছে। সেখানে তাঁর পেশাগত পরিচয়ে জানানো হয়েছে, তিনি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে আইন ও নীতিসংক্রান্ত পেশাগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ব্যারিস্টার।

একজন লিগ্যাল অফিসারের মূল কাজ হলো সভাপতির কার্যালয়ের সব ধরনের কর্মকাণ্ড ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া আইনি কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা। সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত আন্তর্জাতিক চুক্তি, প্রস্তাবনা ও নীতিনির্ধারণী দলিলের আইনি দিকগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করা এর অন্তর্ভুক্ত। এর পাশাপাশি জাতিসংঘের মূল সনদ ও অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী মেনে সভাগুলো পরিচালিত হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা এবং সভাপতির পক্ষে আইনি বিশ্লেষণ ও দাপ্তরিক নথি প্রস্তুত করাও তাঁর কাজের অংশ।

বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অংশীদারদের সাথে সম্পাদিত নানা চুক্তি সম্পাদন ও চূড়ান্তকরণে তিনি সহায়তা প্রদান করবেন। তাছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সুরক্ষা, জলবায়ু কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সুশাসন সংক্রান্ত বিষয়ে নীতিমালার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আইনগত গবেষণার দায়িত্বও তাঁকে পালন করতে হবে। তবে তাঁর পদটি জাতিসংঘের নিয়মিত পেশাদার বাজেটের কোন গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত এবং বেতন কাঠামোর কোন ধাপে পড়ছে, সে সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সিভিল সার্ভিস কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী, পেশাদার ও উচ্চতর স্তরের কর্মকর্তাদের বেতন পি-১ থেকে পি-৫ পর্যন্ত মোট পাঁচটি পেশাদার গ্রেডে নির্ধারিত হয়ে থাকে। মূল বা ভিত্তি বেতনের সাথে কর্মস্থলভিত্তিক পোস্ট অ্যাডজাস্টমেন্ট বা জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় ভাতা যোগ করে কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়।

চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর জাতিসংঘের সাধারণ বেতন কাঠামো অনুযায়ী, পি-১ গ্রেডের বার্ষিক নিট ভিত্তি বেতন বিভিন্ন ধাপভেদে ৪৩ হাজার ৮৩৪ থেকে ৫৯ হাজার ৬১৭ মার্কিন ডলার। কিন্তু জাইমা রহমান পি-১ গ্রেডে রয়েছেন কি না, তাঁর ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট ধাপ প্রযোজ্য এবং নিউইয়র্কের পোস্ট অ্যাডজাস্টমেন্টসহ তাঁর সর্বমোট পারিশ্রমিক কত দাঁড়াচ্ছে—এসব তথ্য জাতিসংঘ প্রকাশ করেনি। পোস্ট অ্যাডজাস্টমেন্টের মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয়ের তারতম্য বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বজুড়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের ক্রয়ক্ষমতা সমান রাখা। ফলে কেবল ভিত্তি বেতনের হিসাব দেখে কোনো আন্তর্জাতিক কর্মকর্তার প্রকৃত মাসিক বা বার্ষিক মোট পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা অসম্ভব।

৮১তম অধিবেশনের কার্যালয়ের তালিকায় তাঁর পদ লিগ্যাল অফিসার হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকলেও গ্রেড বা পারিশ্রমিক অপ্রকাশিত থাকায় এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। জাইমা রহমান ছাড়াও সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। জাতিসংঘের দাপ্তরিক নথিপত্র অনুযায়ী, এই দপ্তরে ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট হিসেবে আবদুল আলিম, উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক সহকারী হিসেবে মোয়াজ্জেম হোসেন, তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলগত পূর্বাভাসবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে মাফিজুল ইসলাম, টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে জাকির আহমেদ এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে থাকা দেশগুলোর বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে মো. রফিকুল আলম মোল্লা দায়িত্ব পালন করছেন।

উল্লেখ্য, ড. খলিলুর রহমান গত ২ জুন ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হন। এরপর গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশন শুরু হয়েছে, যা ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ব্যারিস্টার জাইমা রহমান লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য থেকেই মর্যাদাপূর্ণ বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। জাতিসংঘের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্তেও তাঁকে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের আইন অঙ্গনে নীতি ও আইনি কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০২৬ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় তিনি সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন।