রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আশুলিয়ায় ফুটপাত নিয়ে আনসার ও হকারদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

আশুলিয়ায় ফুটপাত নিয়ে আনসার ও হকারদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার আশুলিয়ায় ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে আনসার সদস্য ও হকারদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ হকাররা গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে কাঠ ও আসবাবপত্র ফেলে দীর্ঘ সময় অবরোধ করে রাখলে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে। রবিবার সকালে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের ডিইপিজেড পুরাতন জোন ও গণকবাড়ি এলাকায় এই সংঘর্ষ ও অবরোধের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে অবৈধ স্থাপনা বসানো ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক অবস্থানে ছিল। ইপিজেড সূত্র জানায়, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার নিরাপত্তা সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে এবং মহাসড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এর আগেও একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে কর্তৃপক্ষ। রবিবার সকালে হকাররা পুনরায় সেখানে নিজেদের দোকানপাট বসানোর চেষ্টা করলে ডিইপিজেডের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা তাদের সরাসরি বাধা প্রদান করেন। ওই সময় হকাররা জীবিকার স্বার্থে ব্যবসার জন্য অন্তত আট থেকে দশ ফুট জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জোর দাবি জানান। 

তবে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ সার্বিক নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে হকারদের সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তা তীব্র সংঘর্ষ ও মারমুখী রূপ ধারণ করে। আনসার সদস্য ও হকারদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে সংশ্লিষ্ট এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে হকাররা ডিইপিজেড এলাকা থেকে বলিভদ্র বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের উভয় লেনে কাঠ, বাঁশ ও বিভিন্ন ভারী আসবাবপত্র ফেলে তাৎক্ষণিক সড়ক অবরোধ করে বসেন। 

রাজধানীর সাথে উত্তরবঙ্গের অন্যতম সংযোগকারী এই ব্যস্ততম মহাসড়কে দীর্ঘ সময় সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, যার ফলে চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। অবরোধের খবর পাওয়ার সাথে সাথে আশুলিয়া থানা পুলিশ এবং স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা উত্তেজিত হকারদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং সড়ক থেকে ব্যারিকেড সরিয়ে নিতে তাদের রাজি করান। 

এরপর দুপুরে ওই সড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে আনসার সদস্যদের বাধার মুখেই মূলত হকারদের মধ্যে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তাৎক্ষণিক মধ্যস্থতায় হকাররা ব্যারিকেড তুলে নিয়ে সড়ক ছেড়ে দিলে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।