নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
শ্রমিকদের আবেগকে পুঁজি করে তৈরি পোশাকশিল্প ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে শিল্পাঞ্চলে নাশকতা, বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রবিবার দুপুরে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বর্তমানে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের কোথাও কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি। কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা স্বাভাবিক নিয়মেই প্রবেশ করে নিজ নিজ কর্মস্থলে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, চলতি মাসের পহেলা তারিখে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বোর্ড ইতোমধ্যে প্রথম বৈঠক করে শ্রমিকদের বিভিন্ন কল্যাণমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গেও সরাসরি আলোচনা হয়েছে। শ্রমিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, চলমান আন্দোলন বা অস্থিরতা তাদের নিজেদের নয়। শ্রমিকদের নায্য দাবিগুলোর প্রতি সরকার যথেষ্ট সহানুভূতিশীল এবং বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ শ্রমিকবান্ধব হিসেবে কাজ করছে। তাদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি নিয়ে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাই শ্রমিকদের সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকলে এর নেপথ্যে কোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর গোপন অপতৎপরতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
শ্রমিকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র শিল্পাঞ্চলে অশান্ত পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করে ডিআইজি বলেন, শ্রমিক একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এই সংবেদনশীলতাকে পুঁজি করে যারা অযথা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় প্রায় পনেরোটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে। এ ছাড়া এই এলাকায় শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দাবি, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো প্রকৃত শ্রমিক নেই; বরং তাদের সবাই এই সংকট ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সঙ্গে সরাসরি জড়িত অপরাধী।
পাশাপাশি গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জেও শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা একটি বিশেষ গোষ্ঠীর সদস্য, যারা শিল্প খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি।
কারখানার সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ ও পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা মাঠপর্যায়ে অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছেন। কারা এসব নাশকতার নেপথ্যে রয়েছে, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুনির্দিষ্টভাবে জানা আছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি সতর্কবার্তায় বলেন, একটি কুচক্রী মহল আপনাদের আবেগকে ভুলভাবে কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করছে। তাই স্থানীয় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এসব অপতৎপরতা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে। কারখানা, বাসস্থান কিংবা রাস্তাঘাটে পুলিশ সবসময় শ্রমিকদের পাশে রয়েছে। শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ, বিজিবি, এপিবিএন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন