নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে বলে মন্তব্য করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। একই সঙ্গে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারে পরিবর্তন আনতে দেশবাসীকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গত শনিবার কেরালার কোচিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত ওই প্রতিবাদ সমাবেশে দীপক বলেন, একমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। ককরোচ জনতা পার্টির জন্তর মন্তর অ্যাট কোচি কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সমাবেশে দীপক অভিযোগ করেন যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করতে বিজেপি সরকার দেশের তরুণ প্রজন্মের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জ্ঞানেশ কুমার এতটা গুরুত্বপূর্ণ কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। জাতীয় পতাকা নিয়ে দিল্লির জন্তর মন্তরে প্রবেশের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে নিজের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের যেখানেই যাবেন, সেখানেই তারা জাতীয় পতাকা বহন করবেন।
তিনি আরও বলেন, এই তেরঙ্গা পতাকা উঁচিয়ে ধরার অপরাধেই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এবং তার দুই ভাই সৌরভ ও আশুতোষকেও একই কারণে কারাগারে বন্দি করা হয়েছিল। ভারতে সর্বশেষ এমন ঘটনা ব্রিটিশ শাসনামলে ঘটেছিল বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমান এনডিএ সরকারের সঙ্গে ব্রিটিশ শাসনের তুলনা করে দীপক অভিযোগ করেন, এই সরকার মানুষের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, তাকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কেরালা কিংবা তামিলনাড়ু—দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকেই গ্রেপ্তার করা হোক। প্রতিবারই সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি পুনরায় তেরঙ্গা পতাকা উঁচিয়ে ধরবেন বলে ঘোষণা দেন।
দীপকের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার ধীরে ধীরে মানুষের খাদ্যাভ্যাস, বিয়ে ও ভালোবাসার স্বাধীনতা থেকে শুরু করে ভোটাধিকার পর্যন্ত সবকিছু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করতেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তিনি জোরালো দাবি করেন। তিনি বলেন, প্রথমে তারা নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে মানুষ কী খাবে, এরপর কার সঙ্গে বিয়ে করবে ও ভালোবাসবে, আর এখন তারা নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে মানুষ কাকে ভোট দেবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বি আর আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী ও জওহরলাল নেহরুর আদর্শের ওপর ভিত্তি করেই ভারতের মূল রাষ্ট্রীয় কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার দাবি, গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে দেশ অনেকটাই নীরব হয়ে পড়েছিল, তবে জন্তর মন্তরের প্রতিবাদ কর্মসূচি মানুষের মধ্যে আবারও কথা বলার সাহস ও প্রতিবাদের শক্তি ফিরিয়ে এনেছে। কেন্দ্রীয় সরকার তরুণ প্রতিবাদকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করতে শুরু করায় দেশের তরুণদের নির্দিষ্ট করে নিশানা করা হচ্ছে। বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মীয় বিভাজন তৈরির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্যই দেশে দাঙ্গা-হাঙ্গামা উসকে দেওয়া হচ্ছে।
কেরালার রাজেন্দ্র ময়দানে আয়োজিত ওই সমাবেশে বিভিন্ন বয়সের বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যুব ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও এই কর্মসূচিতে যোগ দেন এবং বিভিন্ন পরিবেশনার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান। এ সংবাদটির তথ্যসূত্র হিসেবে ইন্ডিয়া টুডে-এর প্রতিবেদন ব্যবহার করা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন