রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬,

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় কি আবারও হামলা চালাবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নভেম্বর ৮, ২০২৬, ১১:২২ এএম

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় কি আবারও হামলা চালাবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে কখনো হামলার হুমকি দিচ্ছেন, আবার কখনো বলছেন, যুদ্ধের অবসানে সমঝোতা অনেক দূর এগিয়েছে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর তার বক্তব্যে এমন পরস্পরবিরোধী অবস্থান দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যেই শুক্রবার ইরানের কেশম দ্বীপে আবারও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ইরানও সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কায় পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর আশপাশে বসবাসকারীদের মধ্যে আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণ শুরু করেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্প কি আবারও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন?

নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয় এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের অসন্তোষের কথা স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস করে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তিনি আরও বলেন, তিনি এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি না, তা শিগগিরই জানা যাবে।

শুক্রবার ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। ট্রাম্প এসব হামলাকে ছোটখাটো হামলা বলে উল্লেখ করেন। একই দিন ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে আবারও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে হামলার কথা জানানোর পাশাপাশি একই দিন ইরানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতির কথাও বলেছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আমাদের অনেক অগ্রগতি হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের যেসব দাবি রয়েছে, তা থেকে তেহরান সরে আসতে রাজি নয়। অন্যদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছেন ট্রাম্প। এই দুই পরিস্থিতি তাকে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ফেলেছে। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নাকি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো—এখন সেটিই তার বড় চ্যালেঞ্জ।

তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে কি না সে বিষয়ে শুক্রবার একাধিকবার ইরানের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা এখন তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। শনিবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবি নাকচ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রচারণা কেবল তাদেরই উপকারে আসে, যারা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চায়।

কেশব দ্বীপে আবারও কেন হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র? শুক্রবার ইরানের কেশম দ্বীপে সামরিক হামলার কথা স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দ্বীপটির সুজা এলাকায় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে দ্বীপটিতে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ওই হামলাকে আত্মরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করেছিল। কেশম দ্বীপ ইরানের অন্যতম প্রধান নৌঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও পরিচালনার জন্য ভূগর্ভস্থ স্থাপনাও রয়েছে, যেগুলোকে মিসাইল সিটি বলা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করছে। সোমবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, মার্কিন সামরিক সম্পদ লক্ষ্য করে ইরান যাতে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে না পারে, সে জন্য এসব হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, কেশম দ্বীপের আকাশে একটি মার্কিন ড্রোন শনাক্ত করে সেটি ভূপাতিত করেছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। দ্বীপটিতে বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সামরিক কমান্ড সেন্টকম জানিয়েছে, সেখানকার পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত রয়েছে।

পারমাণবিক স্থাপনায় আবার হামলার প্রস্তুতি চলছে কি না—এই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়েছে। ইরান মনে করছে, দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো আবারও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এ আশঙ্কায় স্থাপনাগুলোর আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণ করছে তেহরান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে আর বিশ্বাস করা যায় না এবং তিনি এমন অপরাধ করে বসতে পারেন। পারমাণবিক বিকিরণের প্রভাব থেকে থাইরয়েড গ্রন্থিকে সুরক্ষা দিতে এসব ট্যাবলেট ব্যবহার করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক ব্রিফিংয়ে ইরানের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে, দেশটির পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাহাড়টির নিচে বিশাল সুড়ঙ্গ ও বিভিন্ন স্থাপনার একটি জটিল নেটওয়ার্ক রয়েছে।

এ ছাড়া ইরানের সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর শহরের বাসিন্দাদের মধ্যেও আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণ করছে। এই শহরেই ইরানের একমাত্র সচল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস কর্মসূচি শুক্রবার ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্যের বিনিময়ে সর্বোচ্চ দুই কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা, সরঞ্জাম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

কেন কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ট্রাম্প? ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের সামনে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং তেহরানের কৌশল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। এ পরাজয়ের পেছনে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। যুদ্ধ নিয়ে নিজ দলের ভেতরেও বিরোধিতার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং শান্তি আলোচনা শুরুর আগে ইরানের শর্ত মেনে নিতে দীর্ঘদিন ধরেই অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন তিনি। ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ছাড়, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা।

এখন এসব শর্ত মেনে নিয়ে সমঝোতার পথে এগোবেন, নাকি নতুন করে হামলা চালাবেন—এমন সিদ্ধান্তের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। প্রথমটি বেছে নিলে তাঁর এত দিনের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে। আর হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে যুদ্ধবিরোধী ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে। তেহরানের কৌশল নিয়ে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সংঘাতে তাঁদের বিকল্পও সীমিত হয়ে এসেছে।

এখন ইরান পাল্টা হামলার পরিধি আরও বাড়ানোর হুমকি দিচ্ছে। দেশটির ইঙ্গিত, পরবর্তী হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোও। আহমাদিয়ানের মতে, সীমিত পরিসরে হামলা চালালে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সে বিষয়ে ট্রাম্পের স্পষ্ট ধারণা নেই। এই অনিশ্চয়তাই তাঁর ব্যক্তিগত দ্বিধা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানকে নিয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের মধ্যেও মতবিভক্তি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এর অর্থ এই নয় যে ট্রাম্প ইরানে হামলা চালাবেন না। তবে তিনি নিশ্চিত হতে চান, হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কী লাভ হবে এবং কীভাবে সম্মানজনকভাবে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা যাবে। একই সঙ্গে তিনি চান না, ইরান পাল্টা হামলার পরিধি বাড়িয়ে মার্কিন বাহিনী ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ুক।

আগামী জানুয়ারির আগেই ট্রাম্পকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই দেশই যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবারও শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সেন্টকম। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আবার যুদ্ধ শুরু করলে আগের চেয়ে আরও বড় পরিসরে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

বৃহস্পতিবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মহাকাশবাহিনীর কমান্ডারের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার একজন মুখপাত্র বলেন, নতুন করে আগ্রাসন চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলায় সহায়তা করে—এমন যেকোনো দেশ বা শক্তি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। এর আগে ইরান সতর্ক করে বলেছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা কেবল নেটওয়ার্ক, তথ্যকেন্দ্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংক্রান্ত স্থাপনায়ও হামলা চালানো হতে পারে।

তবে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি চললেও কূটনৈতিক তৎপরতা থেমে নেই। বৃহস্পতিবার কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি পারমাণবিক ও শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন তেহরানের সাতটি দাবি মেনে নেওয়ার পরই কেবল নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। সাবেক ইরানি কূটনীতিক হাদি আফগাহি আল-জাজিরাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রও নমনীয় হলে সমঝোতার পথ সহজ করতে পারে তেহরান। 

তাঁর মতে, ট্রাম্প আসলে যুদ্ধ চান না। কারণ, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তাঁকে আরও বেশি মূল্য দিতে হবে। তবে আফগাহি সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্প এখনো যুদ্ধের পক্ষে থাকা একদল কট্টরপন্থীর মাঝে রয়েছেন, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীও অন্তর্ভুক্ত। এদিকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল থানি শুক্রবার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এক উন্মুক্ত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করার জন্য দুই দেশের নিখুঁত মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকা উচিত নয়।