রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬,
হরমুজ প্রণালি

ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৯:২৯ এএম

ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণ

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় শনিবার সন্ধ্যায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত কেশম দ্বীপ এবং জাস্ক, সিরিক ও বন্দর আব্বাস শহরে এসব শব্দ পাওয়া যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে দেশটির সামরিক তৎপরতার সঙ্গে বিস্ফোরণগুলোর যোগসূত্র থাকতে পারে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, এসব এলাকায় কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত বার্তা দেয়নি। তবে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে শোনা বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্পর্ক নেই।

এদিকে রোববার ভোরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির একটি অননুমোদিত পথে চলাচলের চেষ্টার সময় মাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে গেছে। তবে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এই ঘোষণার সঙ্গে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে শোনা বিস্ফোরণের শব্দের সরাসরি কোনো সংযোগ রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।

জলপথটিতে চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান এবং তা লঙ্ঘন করা জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে। হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় করা এবং ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই দেশটির মূল লক্ষ্য।

এর আগে তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছিল, কেশম দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ওই দ্বীপে সীমিত পরিসরে হামলা চালানোর কয়েক দিন পরেই বিস্ফোরণের এসব নতুন খবর সামনে এল। এর আগে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, সেই হামলাটি ছিল সীমিত এবং তা কোনো বড় সামরিক অভিযানের সূচনা নয়।

এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে অচল করে দিয়েছে তাদের বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জাহাজটি অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টা করলে তাদের একটি যুদ্ধবিমান থেকে জাহাজটির পেছনের অংশে আক্রমণ চালানো হয়, যার ফলে সেটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে।