নভেম্বর ৭, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলের সীমা বা রেঞ্জ দুই হাজার কিলোমিটার রাখার দীর্ঘদিনের বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়েছে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। এই কঠোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর থেকে তেহরান যেসব নতুন মিসাইল তৈরি করবে, সেগুলোর আঘাত হানার সক্ষমতা দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি হবে।
শনিবার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র হোসেন মোহেব্বি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়ানোর জোরালো সম্ভাবনার মধ্যেই তেহরান এই সামরিক নীতি বদলের ঘোষণা দিল।
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, দেশটির ওপর নতুন কোনো আগ্রাসন চালানো হলে এবার আর কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা মানা হবে না। অর্থাৎ যেকোনো পাল্টা হামলার ক্ষেত্রে পূর্বের মতো কোনো বাধা বা গণ্ডি থাকবে না বলেই স্পষ্ট করা হয়।
রাজধানী তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র জানান, মিসাইলের পাল্লা বা রেঞ্জের ওপর থাকা সব ধরনের সীমাবদ্ধতা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে এবং ইরান কথার বদলে বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করবে।
তবে ইরানের হাতে ঠিক এই মুহূর্তে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি রেঞ্জের উন্নত মিসাইল মজুদ আছে কি না কিংবা অতীতে গোপন কোনো ভাণ্ডার ছিল কি না, সে বিষয়ে মুখপাত্র সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
বর্তমানে বলবৎ থাকা দুই হাজার কিলোমিটার রেঞ্জের আওতার মধ্যে রয়েছে ইউরোপের গ্রিস, বালকান অঞ্চলের কিছু অংশ, গোটা আরব উপদ্বীপ এবং মিশরের অধিকাংশ অঞ্চল। অর্থাৎ বর্তমান সক্ষমতা দিয়েই মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় পুরো ভূখণ্ডে আঘাত হানার ক্ষমতা রয়েছে ইরানের। এই পাল্লা আরও বৃদ্ধি পেলে তেহরানের মিসাইল হামলার সরাসরি আওতায় চলে আসবে আরও বহু দূরবর্তী দেশ।
চলতি বছরের মার্চ মাসে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছিল ইরান। উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই ঘাঁটির দিকে মিসাইল ছোড়ার পরই প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মনে প্রশ্ন জেগেছিল যে, তেহরান ইতিমধ্যে নির্ধারিত সীমার চেয়ে বহুগুণ বেশি দূরপাল্লার অস্ত্র তৈরি করে ফেলেছে কি না। যদিও ওই সময় মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইরানের ছোড়া দুটি মিসাইলই মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়েছিল।
মার্কিন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের আশঙ্কা, নিজেদের উন্নত মহাকাশ গবেষণার প্রযুক্তি ও প্রোগ্রামকে সামরিক খাতে ব্যবহার করে অচিরেই আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে ইরান।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন