নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
হরমুজ প্রণালিতে অবাধে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দিতে চারটি দেশকে বিশেষ ছাড় দিয়েছে ইরান। দেশগুলো হলো ভারত, চীন, ইরাক ও কাতার। গত মঙ্গলবার ইরানের এক আইনপ্রণেতা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরার।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির সহসভাপতি আমির হায়াত মোকাদ্দাম ইরানি স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সিকে জানান, এই চার দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে অবাধে চলাচল করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও সেগুলোতে বাধা দিচ্ছে না।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল তেহরান। এর জবাবে গত জুলাইয়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
হায়াত মোকাদ্দামের দাবি, এই বিশেষ ছাড়ের বিনিময়ে ভারত থেকে ওষুধ এবং চীনের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন পাবে ইরান। কাতার ইতোমধ্যে ইরানকে কূটনৈতিক সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
তিনি জানান, ভারত ও চীনকে তাদের জাহাজ চলাচলের জন্য ট্রানজিট ফি দিতে হবে, তবে কাতারের জাহাজ বিনা ফিতে চলাচল করতে পারবে। তবে ইরাকি জাহাজের ক্ষেত্রে কোনো টোল পরিশোধ করতে হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি।
এ বিষয়ে লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও মানবাধিকার অধ্যয়ন বিভাগের গবেষক এবং ইরান বিশেষজ্ঞ রুজবেহ পারসি আল জাজিরাকে বলেন, আইনপ্রণেতা যে যুক্তিই তুলে ধরুন না কেন, মূল প্রশ্ন হলো এই ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকায় বাণিজ্যে পণ্য বিনিময়ের বিষয়টি দেশটির জন্য নতুন নয়, তবে এবারের বিশেষত্ব হলো অবরোধের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ও সেবার আদান-প্রদান নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমির মতে, কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে তেহরান ট্রানজিট ফি অথবা পণ্যের মূল্যের নির্দিষ্ট একটি অংশ আদায় করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং লিবিয়ায় অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে উলফগ্যাং পুশতাই জানান, ইরানের এই পদক্ষেপ বেশ কৌশলী। এটি সফল হলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারবে তেহরান। এর একটি বড় কারণ হলো, ইরানের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন; মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই কিনে থাকে দেশটি। ফলে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং হরমুজ প্রণালিতে দেশটির জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় দিক থেকেই লাভবান হতে পারে ইরান।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন