শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬,

পারমাণবিক ও কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ টি শর্ত দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

পারমাণবিক ও কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ টি শর্ত দিল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন ও হুমকির মধ্যেই ওয়াশিংটনের কাছে পারমাণবিক বিষয়ে নতুন একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে এই নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে। কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

এর আগে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি জানান, কূটনীতির বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্ত দিয়েছেন। ওয়াশিংটন সেই সাতটি শর্ত বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না কিংবা কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না তেহরান।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা, আঞ্চলিক সংঘাত ও যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ করা, এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানো, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ করার দাবিও এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, যেকোনো প্রাথমিক আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীরা কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করলেও নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সংঘাত আবারও শুরু হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, যুদ্ধ আবার শুরু হলে আরও ব্যাপক পাল্টা হামলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইরান।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর জবাবে ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা পরিচালনা করে তেহরান। পরবর্তীতে এই সংঘাত লেবানন ও ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।