শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬,

ইউরোপে একের পর এক বিমানে বোমার হুমকি, ব্যাহত ৩০ ফ্লাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম

ইউরোপে একের পর এক বিমানে বোমার হুমকি, ব্যাহত ৩০ ফ্লাইট

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একের পর এক বিমানে বোমা হামলার ভুয়া হুমকিতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার এক দিনেই প্রায় ত্রিশটি যাত্রীবাহী বিমান এই হুমকির মুখে পড়ে। কোথাও বিমানের জরুরি অবতরণ, কোথাও যাত্রী নামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। কয়েকটি বিমানকে নিরাপত্তা দিতে আকাশে পাঠানো হয়েছে যুদ্ধবিমানও।

বৃহস্পতিবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে এসব ঘটনা ঘটে। অ্যার লিঙ্গাস, উইজ এয়ার, লট, ফিনএয়ার, ইজিজেট, আইবেরিয়া, কেএলএমসহ বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা এই হুমকির কবলে পড়ে। এর আগে মঙ্গলবারও অন্তত সাতটি যাত্রীবাহী বিমান ও একটি প্রমোদতরিতে বোমা হামলার ভুয়া হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

ইতালি, ফ্রান্স, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, ডেনমার্ক ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশে এসব ঘটনা ঘটে। হুমকির কারণে প্যারিস, রোম, মিলান, প্রাগ, ব্রাসেলস, সোফিয়া ও ভিয়েনাগামী একাধিক বিমানের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নুর দপ্তর জানায়, ডাবলিন থেকে রোমগামী অ্যার লিঙ্গাসের একটি বিমানকে বোমা হামলার হুমকির পর যুদ্ধবিমান দিয়ে পাহারা দিয়ে একটি বিমানঘাঁটিতে নেওয়া হয়। পাইলট কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সহযোগিতা না করায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়।

বুলগেরিয়ার বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তিনটি যাত্রীবাহী বিমানকে নিরাপদে অবতরণে সহায়তা করেছে তাদের যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে লন্ডন থেকে সোফিয়াগামী রায়ানএয়ারের একটি বিমানকে গতিপথ পরিবর্তন করে প্লোভদিভে অবতরণ করানো হয়।

স্পেনের মাদ্রিদে দুটি এয়ার ইউরোপার বিমান এবং রোম ও মিলান থেকে আসা আইবেরিয়ার চারটি বিমানকে লক্ষ্য করে বিশ মিনিটের মধ্যে তিনটি হুমকিবিষয়ক ই-মেইল পাঠানো হয়। এ ঘটনায় কয়েকটি বিমানের যাত্রা স্থগিত করা হয় এবং যাত্রীদের নামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পোল্যান্ডের ওয়ারশতে প্যারিসগামী একটি বিমান উড্ডয়নের আগে থামিয়ে দেওয়া হয়। ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিমানবন্দরেও দুটি বিমান তল্লাশি করা হয়।

ইতালির রোম ও মিলানের বিমানবন্দরের বিভিন্ন সংস্থার কাছে হুমকির প্রতিবেদন শিরোনামে একটি ই-মেইল পাঠানো হয়েছিল। এতে হেলসিঙ্কি ও ডাবলিন থেকে আসা বিমানে বিস্ফোরক রাখার দাবি করা হয়। তবে কারা এসব হুমকি দিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির কাজ হতে পারে। আবার এর পেছনে সমন্বিত নাশকতার চেষ্টাও থাকতে পারে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ এর আগে বিভিন্ন ধরনের নাশকতা ও গোপন হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে। তবে মস্কো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এবারের বোমা হামলার হুমকির সঙ্গে রাশিয়া বা অন্য কোনো দেশের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে, বিমানে বোমা হামলার ভুয়া হুমকির পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাইবার হামলার ঘটনাও ঘটছে। সম্প্রতি কয়েকটি দেশের সুপারশপের খাবার সংরক্ষণের হিমাগার এবং ফ্রান্সের কয়েকটি রক্ত সংরক্ষণকেন্দ্র সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলার উদ্দেশ্য হতে পারে জরুরি সেবা ব্যাহত করা, অর্থনৈতিক ক্ষতি সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা।