শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬,

মানবিক মূল্যবোধ ও সততাই আইনজীবীর প্রধান শক্তি: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

জাতীয় ডেস্ক

নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

মানবিক মূল্যবোধ ও সততাই আইনজীবীর প্রধান শক্তি: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

আইন পেশায় সফল হতে হলে মানবিক মূল্যবোধ, পেশাগত দক্ষতা, সততা ও পূর্ণ অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শুক্রবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনবিষয়ক সপ্তদশ হেনরি ডুনান্ট মেমোরিয়াল মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

আইনমন্ত্রী বলেন, একজন মানুষ বিপদে পড়ে আইনজীবীর কাছে এলে নিজের আস্থা, বিশ্বাস, ভরসা, প্রত্যাশা ও স্বপ্ন তার কাছে সমর্পণ করেন। তাই মক্কেলের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা না করে তার পক্ষে যথাযথ আইনি যুক্তি উপস্থাপন এবং পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা একজন আইনজীবীর প্রধান কর্তব্য।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইন পেশা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। এ পেশায় শুধু অর্থ উপার্জনের দিকে মনোযোগী হলে চলবে না, প্রয়োজন পূর্ণকালীন অঙ্গীকার, পেশাদারত্ব, অধ্যবসায় ও গবেষণা। আদালতে প্রতিটি শব্দ ও যুক্তির গুরুত্ব রয়েছে। তাই একজন আইনজীবীকে যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে নির্ভুল তথ্য ও শক্তিশালী আইনি যুক্তি উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিতে হবে। মক্কেল কত টাকা পারিশ্রমিক দিলেন, সেটি নয়; বরং তার পক্ষে যথাযথ আইনি যুক্তি তুলে ধরতে পেরেছেন কি না, সেটিই একজন আইনজীবীর কাছে মুখ্য হওয়া উচিত।

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়াকে আইনজীবীদের পেশাগত জাকাত হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, আইন পেশায় মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকারের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে বিস্তৃতভাবে কাজ করে। অন্যদিকে, যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাতের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রয়োগের প্রশ্নটি সামনে আসে। তবে সময়ের সঙ্গে যুদ্ধের ধরন, ভাষা ও কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। আগে যুদ্ধের প্রধান উপকরণ ছিল অস্ত্র, বোমা ও গুলি; বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপ, বাণিজ্যিক বিরোধ, বাণিজ্য বন্ধ এবং ভিসা বিধিনিষেধের মতো বিষয়ও রাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। পরিবর্তিত বিশ্ববাস্তবতায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রয়োগ, দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রজন্মের নিজস্ব স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও দায়িত্ব রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ও দায়িত্বের প্রতিফলন। তরুণদের মেধা, প্রজ্ঞা, যুক্তি, পরিশ্রম ও অঙ্গীকার দিয়ে দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বিশ্ব গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক এম. তামিম সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির হেড অব ডেলিগেশন নিকোলাস ফ্লুরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির স্কুল অব ল-এর উপদেষ্টা অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান।

এ প্রতিযোগিতায় দেশের ঊনত্রিশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊনত্রিশটি দল অংশগ্রহণের জন্য মেমোরিয়াল বা লিখিত আইনি যুক্তি ও গবেষণাপত্র জমা দেয়। সেখান থেকে নির্বাচিত ষোলোটি দল কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, সশস্ত্র সংঘাতের সময় মানবিক সুরক্ষা, আইনের প্রয়োগ, গবেষণা, বিশ্লেষণ ও যুক্তি উপস্থাপনের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পায়।