নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
ইসরাইলে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পরাজয়ের পর ক্ষমতা ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভ্যুত্থানের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন দেশটির রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। ওই নির্বাচনে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের অংশগ্রহণের হার ছিল নজিরবিহীন। নির্বাচনে পরাজয়ের পর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকে ব্যবহার করে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টাও করছেন নেতানিয়াহু। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট বিরোধীদের চেয়ে পিছিয়ে থাকার বিষয়টি নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট হওয়ার এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এরই মধ্যে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোট নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে শিন বেত। সংস্থাটির প্রধান ডেভিড জিনি নিজেই তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তদন্তে ভোট জালিয়াতি, ঘুষ ও বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলা হলেও এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
এই তদন্ত এমন এক সময়ে শুরু হলো, যখন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট পার্টির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। দল দুটি ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে। সমালোচকদের মতে, ক্ষমতা ধরে রাখতেই এসব দলকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন তিনি।
মঙ্গলবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত তদন্তের কথা উল্লেখ করে শিন বেত মিডল ইস্ট আইয়ের সহযোগী লেখক আবদ আবু শাহাদেহকে গ্রেপ্তার করে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জিনি ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতা আহমাদ তিবি, সামি আবু শাহাদেহ, মানসুর আব্বাস ও আইমান ওদেকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান।
বুধবার বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান সতর্ক করে বলেন, ইসরাইলের গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশ কোনো পরোয়ানা ছাড়াই রাজনৈতিক কর্মীদের আটক করছে। শিন বেত কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই নির্বাচিত জ্যেষ্ঠ জনপ্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করছে। বিদায়ী সরকার নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
পরে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টার অভিযোগও তোলেন গোলান।
এর আগে মঙ্গলবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তার ভাষায়, নেতানিয়াহু নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে থাকা তার অনুগত ব্যক্তিদের সহায়তায় গণতন্ত্রকে ধ্বংস এবং নির্বাচনের ফলাফল চুরি করার চেষ্টা করছেন। নেতানিয়াহুর নিয়োগ দেওয়া শিন বেতপ্রধান ডেভিড জিনির প্রতি ইঙ্গিত করেই তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোট অবশ্য কিছুটা সতর্ক ভাষায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও রাজপথে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে দুর্বল করার মধ্য দিয়ে ইসরাইলের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার একটি সুসংগঠিত চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ইসরাইলি সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরাও নেতানিয়াহুর পদক্ষেপকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এবং অভ্যুত্থানের চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বুধবার হারেৎজের সাংবাদিক আমোস হেরেল লেখেন, প্রধানমন্ত্রী, তার ঘনিষ্ঠজন এবং নিরাপত্তা সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমে তার সহযোগীরা সম্মিলিতভাবে ইসরাইলকে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর সাংবিধানিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।
হেরেলের মতে, নেতানিয়াহু শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পরিচিত কৌশল অনুসরণ করছেন। এর মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উসকানি, সহিংসতার হুমকি এবং নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানো।
ইসরাইলের মূলধারার অর্থনৈতিক সংবাদমাধ্যম ক্যালকালিস্টেও একই ধরনের অভিযোগ তুলে একটি মতামত নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সাংবাদিক মোশে গোরালি লিখেছেন, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানো পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি ঘটিয়েছে।
তার মতে, নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দিতে অনুগত গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে সরকার স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পরিচিত কৌশল অনুসরণ করছে। এদিকে ওয়াইনেটের সাংবাদিক রোনেন বার্গম্যান বলেছেন, ইসরাইল বর্তমানে একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন