শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬,
বিচারব্যবস্থা সংস্কার

দেশে স্বাধীন ও দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

দেশে স্বাধীন ও দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

দেশে স্বাধীন, শক্তিশালী ও দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দেশে স্বাধীন, শক্তিশালী ও দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে মানুষ ন্যায়বিচার পায় এবং বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে পায়। নবীন আইনজীবীদের মেধা, সততা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমেই বিচারাঙ্গনের মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শুক্রবার ঢাকা আইনজীবী সমিতির নবীন সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

আইন পেশায় সফল হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কোনো শর্টকাট পথ নেই। মেধা, প্রজ্ঞা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই একজন আইনজীবীকে নিজের অবস্থান তৈরি করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, একজন বিপদগ্রস্ত মানুষ মহান সৃষ্টিকর্তার পর আইনজীবীর কাছেই আস্থা ও ভরসা নিয়ে আসেন। তাই মক্কেলের বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা আইনজীবীর নৈতিক দায়িত্ব। আদালতে যাওয়ার আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও আইনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে বিচারকদেরও আইনের ঊর্ধ্বে মনে করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো বিচারকের কর্মকাণ্ডে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হলে তাকেও আইনের আওতায় জবাবদিহি করতে হবে।

আদালত অঙ্গনে দলীয় আধিপত্য ও ক্ষমতার দম্ভ না দেখিয়ে প্রত্যেক আইনজীবীকে আইনের কথা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় নবীনদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আইনজীবী হিসেবে সনদ পাওয়ার পরপরই অনেকেই পেশাগত জীবনে প্রবেশ করলেও পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পান না। অনেক ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠদের সঙ্গে কাজ করেও তারা যথাযথ সহযোগিতা ও ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে।

আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য চলতি বছর আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী জানান, বেসরকারি কোম্পানিতে আইনজীবীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রতিটি কোম্পানিতে একজন করে আইনজীবী নিয়োগের বিধান প্রবর্তনের লক্ষ্যে কোম্পানি আইন সংশোধনের বিষয়টি বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

পেশাগত স্বচ্ছতা ও সততা বজায় রাখার পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একজন আইনজীবী যদি দশটি মামলা পরিচালনা করেন, তবে তার মধ্যে অন্তত দুটি মামলা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে পরিচালনা করতে পারেন।

বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সব হত্যাকাণ্ড, অন্যায় ও অবিচারের বিচার করতে বদ্ধপরিকর। বিগত ১৬ বছরের বেশি সময়ের আন্দোলনে সাড়ে চার হাজারের বেশি সহযোদ্ধাকে হারানো, সাত শতাধিক মানুষের গুম এবং ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, এসব অন্যায়-অবিচারের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিবসহ সমিতির সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং নবীন আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।