নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
শ্রমিক আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কোনো অপচেষ্টাই সফল হতে দেওয়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। সোমবার (২ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিস্তারিত বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে দেশের সার্বিক শিল্প খাতে সুপরিকল্পিত নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি বিশেষ মহল।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই এ দেশে তৈরি পোশাকশিল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। এর মাধ্যমে দেশে ব্যাপক নারীর ক্ষমতায়ন ও নতুন কর্মসংস্থানের দিগন্ত উন্মোচিত হয়। পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারও এই রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশ এবং সাধারণ শ্রমিকদের কল্যাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি জানান, সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রমিকবান্ধব প্রশাসন শ্রমিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক, মানবিক মর্যাদা ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও উৎসব ভাতা নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ নিশ্চিত করেছে।
পোশাকশিল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, এই খাতের সঙ্গে দেশের লাখ লাখ শ্রমিকের জীবন-জীবিকা এবং জাতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
এ কারণেই সাধারণ শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়, কারখানার নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক বাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ভারসাম্য রক্ষায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
তবে মজুরি বোর্ড গঠনের মতো ইতিবাচক পদক্ষেপের পরও একটি চিহ্নিত মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিল্পাঞ্চলে বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পতিত স্বৈরাচারের দোসররা উসকানি ও নাশকতার আশ্রয় নিয়ে শ্রমিকদের মজুরির দাবিকে ভিন্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চাইছে। বিভিন্ন কারখানায় অতর্কিত হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি ও সরকারি স্থাপনায় আক্রমণের মতো ঘটনা কোনোভাবেই সাধারণ শ্রমিকদের স্বার্থের পক্ষে যায় না।
তিনি নিশ্চিত করেন, চলমান আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে পলাতক রাজনৈতিক অপশক্তির অস্থিরতা সৃষ্টির অপতৎপরতার বিষয়ে ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এসেছে। কোনো একটি কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে মূলত সাধারণ শ্রমিকরাই সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বেন, যা দেশে ব্যাপক বেকারত্ব সৃষ্টি করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিকে পঙ্গু করে তুলবে।
মাহ্দী আমিন স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা যেমন অপরিহার্য, ঠিক তেমনি সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের অপচেষ্টা প্রতিহত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সহিংস নাশকতার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
গুজব, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও রাজনৈতিক উসকানিতে কান না দেওয়ার জন্য সাধারণ শ্রমিকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি। পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শ্রমিকদের যেকোনো যৌক্তিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার সর্বদাই শ্রমিকদের পাশে থাকবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন