অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১২:০২ এএম
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দুই বছর শূন্য থাকার পর ট্রেজারার পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও দীর্ঘ আড়াই মাসেও যোগদান করেননি নবনিযুক্ত অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকার। এর ফলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে দায়িত্ব বণ্টন এবং নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নবনিযুক্ত ট্রেজারার জানিয়েছেন, তিনি এখনো সরকারের চূড়ান্ত নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মজিব উদ্দিন আহমদ ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সাংবিধানিক পদটি শূন্য অবস্থায় ছিল। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৩ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকারকে বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রেজারার হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে প্রজ্ঞাপন জারির পর আড়াই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি ক্যাম্পাসে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। পদটিতে এখনো যোগ না দেওয়ার বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকার জানান, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছেন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পেলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবেন।
বিষয়টি নিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেজারার নিয়োগের প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও হিসাব শাখার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ট্রেজারারের মতো শীর্ষ আর্থিক পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় অর্থ ব্যবস্থাপনা, বার্ষিক বাজেট বাস্তবায়ন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থসংক্রান্ত অনুমোদন এবং ব্যয় বরাদ্দের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে স্থবিরতা তৈরির ঝুঁকি বাড়ছে। বিভিন্ন অনুষদ ও দপ্তরের আর্থিক প্রস্তাব পর্যালোচনা, নিয়মিত বিল-ভাউচার নিষ্পত্তি এবং অর্থ ছাড়ের মতো দাপ্তরিক কাজে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক প্রশাসনিক গতি হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমও বিলম্বিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বর্তমানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি ট্রেজারারের অতিরিক্ত দায়িত্বও এককভাবে সামলাচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি আর্থিক নীতি ও বিল অনুমোদনের এই বাড়তি দায়িত্ব পালন করায় উপাচার্যের ওপর দাপ্তরিক কাজের চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিয়মিত প্রশাসনিক কাজের সাথে জটিল আর্থিক বিষয়গুলোর সুষ্ঠু সমন্বয় সাধন দিন দিন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন