অক্টোবর ১২, ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
৪৯তম বিসিএসে চূড়ান্ত সুপারিশ ও গেজেটভুক্ত হওয়ার পরও শিক্ষা ক্যাডারে যোগদান করেননি ৩৮ জন প্রার্থী। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই বিসিএসে মোট ৬৫১ জন প্রার্থীকে গেজেটভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। তাদের মধ্য থেকে শেষ পর্যন্ত কর্মস্থলে যোগদান করেছেন ৬১২ জন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে সোমবার (১২ অক্টোবর) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও দায়িত্ব গ্রহণ না করা ৩৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৪ জন পুরুষ এবং চারজন নারী।
গেজেটভুক্ত ৬৫১ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রশিক্ষণ ও যোগদানের অংশ হিসেবে পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) রিপোর্ট করেছেন ৬১২ জন কর্মকর্তা। এর বাইরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সরাসরি যোগদান করেছেন একজন। ফলে সুপারিশ ও চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরও ৩৮টি পদ শূন্যই থেকে গেল।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, যারা দায়িত্ব নেননি তাদের বেশিরভাগই ইতিমধ্যে অন্য কোনো সরকারি ক্যাডার সার্ভিসে কর্মরত আছেন। আবার কেউ কেউ শিক্ষা ক্যাডারের চেয়ে তুলনামূলক পছন্দসই ও আকর্ষণীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ায় নতুন করে এই পদে যোগ দেননি।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ৪৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের গেজেটভুক্ত করে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। প্রাথমিক তালিকায় পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে বেশ কয়েকজন প্রার্থী বাদ পড়েছিলেন। তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে পরবর্তী সময়ে আরও ৪০ জন প্রার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
সরকারি সাধারণ কলেজগুলোতে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট দূর করতে গত ২১ জুলাই ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এতে মোট শূন্য পদের সংখ্যা ছিল ৬৮৩টি।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর গত ২২ জুলাই থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। ওই নির্ধারিত সময়ে মোট ৩ লাখ ১২ হাজার ৭৫২ জন চাকরিপ্রার্থী আবেদন ফরম পূরণ করেছিলেন।
পরবর্তী সময়ে গত ১০ অক্টোবর এমসিকিউ ধরনের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। ওই পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭০ জন চাকরিপ্রার্থী। আবেদন করার পরও ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮২ জন প্রার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিলেন। অর্থাৎ মোট আবেদনকারীর প্রায় ৪১ শতাংশ পরীক্ষায় বসেননি।
লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ছয় কর্মদিবসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে উত্তীর্ণ হন ১ হাজার ২১৯ জন প্রার্থী। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের মৌখিক পরীক্ষা গত ২ নভেম্বর থেকে শুরু করা হয়। মৌখিক মূল্যায়ন শেষে ৬৬৮টি পদে সাময়িকভাবে প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়ে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়েছিল। কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়ে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় সে সময় ১৫টি পদে কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
তথ্যসূত্র: শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারি কর্ম কমিশন

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন