সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমণ্ডি লেকের দূষণ রোধ এবং সামগ্রিক পরিবেশগত উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে লেকগুলোতে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা, জমে থাকা আবর্জনা অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
লেকের পানিতে সরাসরি বর্জ্য ফেলা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে গুলশান লেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের পথ হিসেবে চিহ্নিত ছয়টি প্রাইমারি ও ছয়টি সেকেন্ডারি পয়েন্টের বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। দূষণ নিয়ন্ত্রণে গঠিত কারিগরি কমিটি সমস্যা সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ তুলে ধরে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে লেকের ভাসমান বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করতে যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা দুটি থেকে বাড়িয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ১০টিতে উন্নীত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ভাসমান খননযন্ত্র বা এক্সক্যাভেটর ব্যবহারের মাধ্যমে লেকের তলদেশে জমে থাকা ঘন স্লাজ অপসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের নিজস্ব বর্জ্য পরিশোধন নিশ্চিত করতে আইনি বাধ্যবাধকতা কার্যকরের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ অনুসারে যেসব ভবনে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা এসটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক, সেখানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা নিশ্চিত করতে বলা হয়। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পাইপ কিংবা লেকের সঙ্গে কোনো ভবনের পয়ঃসংযোগ যুক্ত রয়েছে কি না, তা যৌথভাবে চিহ্নিত করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জলের গুণগত মান ফেরাতে প্রযুক্তিগত নানা উদ্যোগের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়।
লেকের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে কৃত্রিম এরেটর স্থাপন এবং বায়োলজিক্যাল ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্গন্ধ দূর করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন লেকগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ তদারকিতে পাঁচটি বিশেষ টিমে বর্তমানে ৪২ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানানো হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে ধানমণ্ডি লেকের সংস্কার, স্লাজ অপসারণ এবং চলমান পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতিও সভায় তুলে ধরা হয়।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই জলাধারগুলোর পরিবেশ সংরক্ষণে গৃহিত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে বৈঠক শেষ হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন