রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইউরোপে তিন মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১৭, ২০২৬, ১২:০০ পিএম

ইউরোপে তিন মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে চলতি বছরের শুরুতেই বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম তিন মাসে এই বাজারে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ইউরোপের দেশগুলোতেও বেচাকেনা কমে যাওয়ায় দেশের প্রধান এই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

ইইউর পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই নেতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে।চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এই বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় আগের বছরের চেয়ে ১৯ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে।এই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫৯ দশমিক ১৬ কোটি ইউরো। 

গত ২০২৫ সালের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৫৬৮ দশমিক ৭ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এই একক বাজার থেকেই দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় অন্তত ১০৯ কোটি ইউরো কমে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী কেবল মার্চ মাসেই তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১৯ দশমিক ২৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে এই পতনের পেছনে প্রধানত দুটি কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে একটি হলো সামগ্রিকভাবে কাপড়ের আমদানির পরিমাণ কমে যাওয়া এবং অন্যটি হলো আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের গড় মূল্য হ্রাস পাওয়া। 

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাকের ওজনের দিক থেকে সরবরাহ কমেছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং প্রতি কেজি কাপড়ের গড় দাম কমেছে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। দেশের মোট বৈদেশিক আয়ের প্রায় অর্ধেক এই বাজার থেকে আসায় এই মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৈশ্বিক বাণিজ্যিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং বিভিন্ন শুল্ক প্রতিবন্ধকতার কারণে চীন, ভারত, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলো এখন ইউরোপের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছে। এই তিন মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন দেশ থেকে মোট দুই হাজার ১০৮ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে যা গত বছরের চেয়ে সাড়ে ১১ শতাংশ কম। এই মন্দার বাজারে শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ চীন ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা তুরস্কের আয়ও যথাক্রমে প্রায় ৮ শতাংশ এবং ১৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।