সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
দেশের তৈরি পোশাক খাতে বিদেশি কর্মকর্তাদের কোনো প্রয়োজন নেই। নিজস্ব মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে এই শিল্পে শতভাগ দেশি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। প্রায় অর্ধশতকের পুরোনো এই শিল্পে বা বায়িং হাউজে এখনো যেসব বিদেশি কাজ করছেন, তাদের সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন করার সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
লক্ষ্য শুধু বিদেশিদের সরানো নয়।
বাংলাদেশের মেধাবী পেশাজীবীদের একদিন অন্যান্য দেশ উচ্চ পদে নিয়োগ দিয়ে নিয়ে যাবে—এমন একটি টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা ও কাজের পরিবেশ গড়ে তোলার স্বপ্নের কথা জানান তিনি। রোববার রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে ‘ইনোভেশন ইন অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল: ড্রাইভিং কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড গ্রোথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনে এই সভার আয়োজন করা হয়। মেলার প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেট টু মার্কেট’, যা শনিবার সকালে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মাহ্দী আমিন জানান, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্যই তরুণদের বিপুল কর্মসংস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি। দেশে সম্মানজনক জীবিকার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও যেন তাদের প্রবল চাহিদা থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
এই খাতটি বর্তমান সরকারের কাছে গভীর আবেগের একটি জায়গা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই দেশে তৈরি পোশাক শিল্পের মূল ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন বলে স্মরণ করেন মাহ্দী আমিন। তার বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা, শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি ও নগদ প্রণোদনার যুগান্তকারী নীতির ওপর ভর করেই আজকের এই শিল্প দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী, আর এই খাতের মাধ্যমেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরছেন।
গত সাত মাসে বন্ধ থাকা একাধিক কারখানা পুনরায় চালু করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের কাছে সহজে প্রণোদনা পৌঁছানো এবং নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিল্প আধুনিকায়নে কাজ চলছে। তবে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করা হলেও তা কেবল কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরির জন্যই হতে হবে। প্রযুক্তির অজুহাতে শ্রমিকদের কাজ কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই সমীচীন নয় বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক হলেও সক্ষমতা বাড়ানোর আরও সুযোগ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই শিল্প সংশ্লিষ্ট স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং এক বছরের বিশেষায়িত ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম চালুর প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। পাশাপাশি কারখানার সাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের স্টার্টআপে প্রাথমিক মূলধন জোগানের বিষয়েও সরকার সক্রিয়ভাবে ভাবছে বলে জানান তিনি। ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইনোভেশন’ স্লোগানের আওতায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ফারজানা আফরোজ এবং বিইউএফটি উপাচার্য ইঞ্জিনিয়ার ড. আইয়ুব নবী খান। এছাড়া এইচঅ্যান্ডএম-এর রিজিওনাল কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউর রহমান, এইচএসবিসি বাংলাদেশের শাদাব হোসেন ও আশফাকুর রহমান এই প্রাজ্ঞ প্যানেলে অংশ নেন। সভা শেষে মাহ্দী আমিন মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন, যেখানে ৭৩টি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, স্টার্টআপ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এক হাজারের বেশি নতুন উদ্ভাবন প্রদর্শন করছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন