সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে ব্যাহত পোশাক উৎপাদন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১, ২০২৬, ১০:০৯ এএম

জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে ব্যাহত পোশাক উৎপাদন

সাভারে ব্যাহত পোশাক উৎপাদন

শিল্পকারখানা অধ্যুষিত সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং ও জ্বালানি তেলের সংকটে পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এসব কারখানায় বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিল্প মালিক ও কর্মকর্তারা সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত একেএইচ গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবুল কাশেম জানান।

জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি এবং নিয়মিত লোডশেডিংয়ের জন্য প্রতিদিন গড়ে ১০ শতাংশ উৎপাদন কম হচ্ছে। তবে উৎপাদনের চেয়েও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে পণ্য পরিবহন ও শিপমেন্ট। জ্বালানি তেলের অভাবে পণ্যবোঝাই কাভার্ড ভ্যানগুলো সময়মতো গন্তব্যে পাঠানো যাচ্ছে না। 

অনেক সময় পথেই তেল শেষ হওয়ায় কাভার্ড ভ্যান আটকে থাকছে। এর ফলে সঠিক সময়ে শিপমেন্ট করতে না পারায় বিদেশি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাভার পৌর এলাকার আল মুসলিম গ্রুপ ও জেকে গ্রুপের কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় বিকল্প হিসেবে নিজস্ব গ্যাসচালিত জেনারেটর দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। জেকে গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মাহবুব আলম জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে তাঁদের কারখানায় যেখানে প্রতিদিন এক লাখের বেশি পিস পণ্য উৎপাদন হতো, তা এখন ৮০ থেকে ৯০ হাজারে নেমে এসেছে। শিপমেন্টের জন্য পণ্য সময়মতো চট্টগ্রাম ডিপোতে পৌঁছাতে না পারায় অনেক কারখানার মালিককে নিজ খরচে বিমানে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কর্ণপাড়ার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের স্টিচেস লিমিটেড কারখানার প্রধান উৎপাদন পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে উৎপাদন সচল রাখা হয়েছে। তাঁর কারখানায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হলেও এখন তা ১০ হাজারে নেমে এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে কারখানা চালানো কষ্টকর হয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আকতার উজ্জামান লস্কর এ বিষয়ে জানান, চাহিদার চেয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। তবে এই ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। শিগগির উৎপাদন বাড়বে এবং ঘাটতি পূরণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।