নভেম্বর ১, ২০২৫, ০৬:২১ পিএম
বাজারে সবজির উচ্চদরে নাজেহাল অবস্থা ক্রেতাদের, আগাম শীতকালীন ফলন উঠলেও দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। নওগাঁর বাজারগুলোতে গ্রীষ্মকালীন পটল, করলা, ঝিঙ্গে বা বেগুনের মতো সবজিগুলো ৬০ টাকার নিচে মিলছে না।
এরই মধ্যে বেগুন, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বরবটি ও সিমের মতো আগাম শীতকালীন শাকসবজির যোগান শুরু হলেও সেগুলোর বাজার দর কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় পৌঁছেছে।
এই চড়া দামের কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা প্রয়োজনমতো সবজি কিনতে পারছেন না। একজন ক্রেতা জানান, তার ৭ হাজার টাকা বেতনে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং তারা চরম অসুবিধার মধ্যে আছেন।
অনেকে বাধ্য হয়ে হাফ কেজির বদলে ২৫০ গ্রাম সবজি কিনছেন, যেখানে একটি ফুলকপি ৮০ টাকা এবং একটি পাতাকপি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে কেনার আগে একাধিকবার ভাবতে বাধ্য করছে। অন্যদিকে, এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনে প্রতিকূল আবহাওয়াকে দায়ী করছেন কৃষকেরা। নওগাঁ, দিনাজপুর ও জয়পুরহাটের চাষীরা আগাম আলু চাষ শুরু করলেও বৈরী আবহাওয়া তাদের লোকসানের মুখে ফেলেছে। কৃষকদের মতে, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির কারণে ফসল নষ্ট হওয়ায় এক ফসল দুই থেকে তিনবার রোপণ করতে হয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টিপাতের কারণে কপি, মুলা ও পালং শাকের আগাম চাষ করা যায়নি, বীজ ফেললেও তা নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির পর নতুন করে লাগানো চারাগুলো সবেমাত্র বেড়ে উঠছে। অতিরিক্ত বর্ষণের ফলে গাছে পচন ধরা এবং মাটিতে লবণের (নোনা) পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, বিশেষত কপির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। যে ফসলগুলো এতদিনে বাজারে ভরপুর থাকার কথা, তা বন্যার কারণে বিলম্বিত হয়েছে। অনেক কৃষক আবার উচ্চ তাপমাত্রার কারণেও ফলন কম হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে, কৃষি বিভাগ চাষীদের উৎপাদন বাড়াতে সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দ্রুতই যোগান বাড়বে এবং এরই মধ্যে ৪,২০০ জন চাষীকে এক বিঘা জমির জন্য বীজ ও সারসহ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। তবে, উৎপাদনের এই ঘাটতি পূরণে কৃষকেরা সরকারি প্রণোদনা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন